নজরবন্দি ব্যুরোঃ শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি ক্রমে পাহাড়ে পরিণত হয়েছে। সিবিআইয়ের পাশাপাশি তদন্তের দায়িত্ব বর্তেছে ইডির ওপর। এবার গ্রুপ ডি মামলাতেও ইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ সাদা ওএমআর শিট জমা দিয়ে চাকরি হয়েছে। ওএমআর শিটকে বিকৃত করে মোটা অঙ্কের লেনদেন হয়েছে বলে সন্দেহ কলকাতা হাইকোর্টের। তাই ইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হল।
আরও পড়ুনঃ Anubrata Mondal: এখনই দিল্লি যেতে হচ্ছে না, হাইকোর্টের রায়ে হাঁফ ছাড়লেন কেষ্ট


প্রসঙ্গত, ওএমআর শিটে চুড়ান্ত কারচুপি করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একথা আদালতের কাছে অভিযোগ জানিয়ে মামলা দায়ের করেন লক্ষ্মী টুঙ্গা নামের এক চাকরি প্রার্থী। সেখানেই তিনি আদালতের কাছে ভুরি ভুরি দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন মামলাকারী। সেই মামলায় এবার ইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
এর আগে গ্রুপ ডি মামলায় তদন্তের জন্য এর আগে সিবিআইইয়ের সিটকে তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এবার মোটা টাকার লেনদেন দেখতে পেতেই ইডিকে পার্টি হিসেবে যুক্ত করলেন তিনি। এদিন বিচারপতির প্রশ্ন ছিল, সেই সময় স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান কে ছিল? কমিশনের আইনজীবীর তরফে জানানো হয়েছে, সেই সমস্য চেয়ারম্যান ছিলেন সুবীরেশ ভট্টাচার্য।

এর আগে স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। জানিয়েছিলেন, সুবীরেশ ভট্টাচার্যকে প্রয়োজনে দিল্লি নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করুক সিবিআই। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই ধেড়ে ইঁদুর বের হবে। এখন আদালতের এই নির্দেশ নিয়ে কার্যত প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


অন্যদিকে, এদিনেই জামিনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন চেয়রাম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য। তিনি উচ্চশিক্ষিত হয়ে সমাজের সঙ্গে চরম ধোঁকাবাজি করেছেন। কারণ, একদিকে অযোগ্যদের চাকরি দিয়ে যোগ্যদের বঞ্চিত করেছেন, অন্যদিকে অযোগ্যদের হাতে আগামী প্রজন্মের শিক্ষার ভার তুলে দিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। কী করে এই ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করা যায়? আরও এক বছর এই ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তর ডিভিশন বেঞ্চ।
সাদা ওএমআর শিট জমা দিয়ে চাকরি হয়েছে, বিস্ফোরক অভিযোগ হাতে পেল আদালত

একইসঙ্গে আদালতের তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এটা কোনও পোস্ট মাস্টারের চাকরি নয়। মনে রাখবেন এখানে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে। সেখানেও যদি দুর্নীতি হয়, তবে এটা তো সমাজের সঙ্গে বেইমানি করা হল। তখনই আদালতকে সুবীরেশের আইনজীবী জানায়, সুবীরেশের আমলের পরেই দুর্নীতি হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন। তখন আদালতের বক্তব্য ছিল, তিনি দেশের রাষ্ট্রপতির ভাইস চান্সেলর নয়।







