নজরবন্দি ব্যুরোঃ স্কুল সার্ভিস কমিশনের গ্রুপ ডি পদে ১৯১১ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। একইসঙ্গে তাঁদের বেতন ফেরতের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। সিঙ্গেল বেঞ্চের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন চাকরি হারানো গ্রুপ ডি কর্মীরা। বৃহস্পতিবার বেতন ফেরতের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেওয়া হল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের তরফে।
আরও পড়ুনঃ Tripura: ত্রিপুরায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, CPIM কর্মীদের উপর ব্যাপক হামলা বিজেপির।


চাকরি হারানো গ্রুপ ডি কর্মীদের বক্তব্য ছিল, বিগত ৫ বছর ধরে শ্রম দিয়েছেন তাঁরা। তাই টাকা ফেরত কেন দেবেন? এই প্রশ্ন তুলে বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতি সুপ্রতিম মজুমদারের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন তাঁরা। এরপর বৃহস্পতিবার বেতন ফেরতের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেওয়া হল। তবে ১৯১১ জনের ওপর একক বেঞ্চের সম্পূর্ণ রায়ে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, চাকরি বাতিলের নির্দেশ এখনও বহাল থাকছে। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জারি থাকবে এই স্থগিতাদেশ। ৩ মার্চ মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।

প্রসঙ্গত, উত্তরপত্রে কারচুপি করে চাকরি পাওয়া ২৮২০ জনের নাম আলাদা করে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিবিআই তদন্তে ২৮২০ জনের উত্তরপত্র কারচুপি করা হয়েছে বলে উঠে এসেছে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখেছেন বলে জানান কমিশনের আইনজীবী। কমিশনের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দেন, প্রথমে তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং পরে তাঁদের চাকরি বাতিল করতে হবে। এরপরেই ১৯১১ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বেতন ফেরতের নির্দেশে স্থগিতাদেশ, কি জানাল হাইকোর্ট?

একইসঙ্গে জেলবন্দী সুবীরেশ ভট্টাচার্য সম্পর্কে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। বিচারপতির নির্দেশ, সুবীরেশ ভট্টাচার্যকে জানাতে হবে কারা এই নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত? এমনকি নাম জানাতে ভয় পেলে তাঁর জন্য উপযুক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। আদালতের আরও বড় নির্দেশ, যতক্ষণ না সুবীরেশ ভট্টাচার্য নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করছেন, তিনি তাঁর পিএইচডি, স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ব্যবহার করতে পারবেন না। একইসঙ্গে বিচারপতির বক্তব্য, নাম না জানালে মনে করে নেওয়া হবে সুবীরেশ ভট্টাচার্য নিয়োগ দুর্নীতির প্রধান মাথা।










