চোট সারিয়ে জাতীয় দলে ফেরা এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা—সব মিলিয়ে সময়টা যে Hardik Pandya-র জন্য বিশেষ, তা প্রমাণ করলেন ব্যাট হাতেই। শনিবার বিজয় হাজারে ট্রফির ম্যাচে বরোদার হয়ে খেলতে নেমে বিদর্ভের বিরুদ্ধে দুরন্ত এক শতরান করলেন হার্দিক। ৬৮ বলে সেঞ্চুরি করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, বিশ্বকাপের আগে তাঁর ব্যাট পুরোপুরি প্রস্তুত।
চাপের মধ্যে দায়িত্ব নিলেন হার্দিক
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে চরম চাপে পড়ে যায় বরোদা। মাত্র ৭১ রানে পাঁচ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ম্যাচ কার্যত হাতছাড়া হওয়ার পথে ছিল। সেই সময়ই দলের হাল ধরেন হার্দিক পাণ্ড্য। শুরুতে পরিস্থিতি বুঝে ধীরে ইনিংস গড়েন তিনি।


হাফ সেঞ্চুরি করতে তাঁর লেগেছে ৪৪ বল। কিন্তু একবার সেট হয়ে যাওয়ার পর পরিচিত আগ্রাসী রূপে ধরা দেন এই অলরাউন্ডার।
এক ওভারে ৫ ছক্কা, ম্যাচের মোড় ঘোরানো ওভার
হার্দিকের ইনিংসের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে ৩৯তম ওভারে। বিদর্ভের পার্থ রেখাড়ের এক ওভারে তোলেন ৩৪ রান—প্রথম পাঁচ বলে পাঁচটি ছক্কা, শেষ বলে বাউন্ডারি। মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় ম্যাচের গতিপথ।
এরপর মাত্র ২৪ বলে পূর্ণ করেন পরের ৫০ রান এবং ৬৮ বলে পৌঁছে যান শতরানে। সেখানেই থামেননি তিনি।


১৩৩ রানে থামলেন হার্দিক
হার্দিক শেষ পর্যন্ত ৯২ বলে ১৩৩ রান করে আউট হন। তাঁর এই বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ১১টি ছক্কা। স্ট্রাইক রেট প্রায় ১৪৫। তাঁর দাপটেই বরোদা ৯ উইকেটে ২৯৩ রানের লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে তোলে।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি
এই শতরান হার্দিকের কাছে আরও বিশেষ। কারণ, লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এতদিন ১১৯টি ম্যাচ খেলে ২৩০০-র বেশি রান করলেও শতরান অধরাই ছিল। ছিল ১৩টি হাফ সেঞ্চুরি, কিন্তু সেঞ্চুরি আসেনি—এ বার সেই আক্ষেপও মিটল।
বিশ্বকাপের আগে এই ফর্ম ভারতীয় শিবিরের জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তির। ব্যাটে-বলে ম্যাচ ঘোরানোর ক্ষমতা থাকা হার্দিক যে বড় মঞ্চে ভারতের অন্যতম তুরুপের তাস, শনিবারের ইনিংস তা আবার মনে করিয়ে দিল।







