দুদিন ধরে মৃত দিদিমার দেহ আঁকড়ে অবলা নাতনী, রবিনসন স্ট্রীটের ছায়া এবার দক্ষিন দিনাজপুরে

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবান্দি, বালুরঘাটঃ রবিনসন স্ট্রীট কান্ডের ছায়া দক্ষিন দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে, দুদিন ধরে মৃত দিদিমার দেহ আঁকড়ে রইলেন নাতনী। কুমারগঞ্জ থানা থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের পথ, বলতে গেলে থানার নাকের ডগায় অসহায় মানসিকবিকলাঙ্গ অবলা নাতনীকে নিয়ে একাকী বাস এলাকায় প্রচন্ড আর্থিক অনটনে বৃদ্ধা স্মৃতি (সন্ধ্যা) রানী ঝাঁ ।

আরও পড়ুনঃ সুদ সমেত অঙ্কিতার টাকা ববিতাকে দিতে হবে, নির্দেশ বিচারপতির

স্মৃতি ঝাঁর স্বামী রুহিণী ঝাঁ অনেকদিন আগেই মারা গেছেন। এক মেয়ে ও তার স্বামীও অনেক দিন আগে মারা গেছেন। এক ছেলে থাকলেও তার কোন খোঁজ নেই। এদিকে স্মৃতিদেবীর মেয়ের মানসিক ভাবে অসুস্থ এক মেয়ে রয়েছে। তাকে নিয়েই কোন রকমে দিন গুজরাতেন তিনি। পাড়া-প্রতিবেশী এবং কিছু সহৃদয় ব্যক্তি স্মৃতিদেবীকে সাহায্য করতেন। কিন্তু বয়সের কারণে বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।

20 13

নাতনি রানীকে নিয়েই সংসার ছিল তাঁর। ছোট থেকেই অভাব-অনটন থাকায় নাতনির চিকিৎসা করাতে পারেননি। যার ফলে আর পাঁচটি মেয়ের মত সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল না রানী। বেশ কিছু দিন হলো শারীরিকভাবে বৃদ্ধা প্রায় অচল হয়ে পড়েন। এমত অবস্থায় স্থানীয় ক্লাব এবং দু একটি সমাজসেবী সংস্থা থেকে কিছু সাহায্য দেওয়া হয়েছিলো।

21 10

কিন্তু তাতেও তাদের সেই দুর্দশা ঘোচেনি। এদিকে বয়সের কারণে বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন স্মৃতি ঝা। নাতনি রানীকে নিয়েই সংসার ছিল তাঁর। ছোট থেকেই অভাব-অনটন থাকায় নাতনির চিকিৎসা করাতে পারেননি। যার ফলে আর পাঁচটি মেয়ের মত সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল না রানী। এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ওই এলাকায় পচা দুর্গন্ধ বেরছিল।

দুদিন ধরে মৃত দিদিমার দেহ আঁকড়ে অবলা নাতনী, রবিনসন স্ট্রীটের ছায়া এবার দক্ষিন দিনাজপুরে
দুদিন ধরে মৃত দিদিমার দেহ আঁকড়ে অবলা নাতনী, রবিনসন স্ট্রীটের ছায়া এবার দক্ষিন দিনাজপুরে

স্থানীয়দের নজরে আসতেই বৃদ্ধার বাড়ির দিকে এগিয়ে যান স্থানিওরা । তখনই তাদের নজরে আসে বৃদ্ধার ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। আর তার পাশেই বসে আছে তাঁর নাতনি রানী। স্থানিওদের অনুমান চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার বিকেলের পরে কোনো একসময় ওই বৃদ্ধা দেহত্যাগ করেন। নাতনী মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন এবং অবলা হওয়ায় তার পক্ষে কাউকে জানানো সম্ভবপর হয়নি।

22 10

সে মৃত দিদার সাথেই অভুক্ত অবস্থায় দুটো দিন এক ঘরে কাটিয়ে দিতে বাধ্য হন। ইতিমধ্যে খবর জানাজানি হতেই ঘটনাস্থলে আসে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ। সবকিছু খতিয়ে দেখার পর পুলিশের তরফে জানানো হয় গত মঙ্গলবার বিকেলেই মারা যান তিনি। মারা যাওয়া দু’দিন পেরিয়ে যাওয়ায় শরীরে পচন ধরেছিল। যার ফলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল।

66

এদিকে ওই বৃদ্ধার নাতনী মৃতদেহ সঙ্গে দু’দিন কাটায়। এমনকি দু’দিন ধরেই অভুক্ত অবস্থায় ছিল সে। বিষয়টি নজরে আসার পরে ওই মানসিকভাবে অসুস্থ নাবালিকাকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন প্রতিবেশীরা স্থানিও ক্লাব সদস্যরা এগিয়ে এসে প্রশাসনের সহায়তায় দেহ উদ্ধার করে মৃতের পরবর্তী কাজ সম্পন্ন করে বলে জানা গেছে।

যদিও স্থানিও ক্লাব সদস্য ও স্থানিও প্রশাসনের সহয়তায় বৃদ্ধার শেষ কাজ সম্পন্ন হলেও স্থানিওদের মধ্যে সমস্যা দেখা দিয়েছে তার মানসিক ভারসাম্যহীন নাতনীকে নিয়ে। এই অসহায় এই বাকশক্তিহীন ছোট নাতনী কোথায় ও কার কাছে থাকবে সেই নিয়ে। বর্তমানে তার আর কেউ নেই। সে কি ভাবে থাকবে? কোথায় থাকবে?

দুদিন ধরে মৃত দিদিমার দেহ আঁকড়ে অবলা নাতনী, রবিনসন স্ট্রীটের ছায়া এবার দক্ষিন দিনাজপুরে

আপাতত ওই নাবালিকাকে প্রতিবেশী একজনের বাড়িতে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশীরা পুরো বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার চেষ্টা করছেন। প্রশাসনের তরফে ওই নাবালিকাকে কোন হোমে থাকার ব্যবস্থার পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে হয়ত সে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন