নজরবন্দি ব্যুরো: গত রবিবারই রাজ্যের ১৬ টি বিশ্ব বিদ্যালয় গুলির জন্য অন্তবর্তী উপাচার্য নিয়োগ করেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এরপরেই চরমে উঠে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত! নিজের ইচ্ছে মত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ করে রাজ্যপাল বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে অসন্মান করা হচ্ছে বলেই দাবি করেছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। আর এপ্রসঙ্গেই মঙ্গলবার স্বয়ং মুখ খুলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন যে, বাংলার শিক্ষাব্যবস্থার স্বার্থে রাজভবনের সামনে ধর্নায় বসবেন। শুধু তাই নয়, রাজ্যপালের কথা শুনে চললে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে ‘আর্থিক অবরোধ’ চলবে বলে ঘোষণা করলেন তিনি।
আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: স্পেন সফরের আগেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের ভাবনা মমতার, নজরে কারা?


সেই হুঁশিয়ারির কিছু ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই মুখ্যমন্ত্রীর হুংকারে পাল্টা জবাব দিলেন রাজ্যপাল। কৃষ্ণনগরের কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য নিয়োগ করলেন রাজ্যপাল। জানা গিয়েছে, রাজ্যপাল কৃষ্ণনগরের কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তিকালীন উপাচার্য হিসাবে অধ্যাপক কাজল দে-কে নিয়োগ করছেন। শুধু তাই নয়, রাজ্যপাল নিয়োগপত্রে সই করার পাশাপাশি ওই মুহূর্তের একটি ছবি রাজভবনের তরফে প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। আর এই ঘটনার পরই রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত আরও বাড়তে চলছে বলে মত প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ!

প্রসঙ্গত, সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি বলেছিলেন, “বাংলায় আর শিক্ষা ব্যবস্থা বলে কিছুই নেই। সমস্ত শিক্ষা ব্যবস্থা দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। আর এই ধ্বংসের পিছনে হাত রয়েছে রাজ্যের ‘জেমস বন্ড’ রাজ্যপালের। ওনার জন্যই বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থার এহেন অবস্থা। আদালতেই সমাধান হবে। আদালত ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।” এরপরেই মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ধন ধান্য প্রেক্ষাগৃহে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এপ্রসঙ্গে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী।



মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষাব্যবস্থাকে নিজের ইচ্ছে মত চালানোর চক্রান্ত করছেন রাজ্যপাল। আমরা এই চক্রান্ত মানব না। কি ভেবেছেন উনি কী? মুখ্যমন্ত্রীর থেকেও বড়? সে উনি বড় হতেই পারেন। কিন্তু আমি এক্ষুনি বলে দিচ্ছি, এই রকম ভাবে চলতে পারে না। কোনও বিশ্ববিদ্যালয় যদি নির্দেশ মেনে চলে তা হলে আর্থিক বাধা তৈরি করা হবে। দেখি কে চালায়। বেতন কে দেয় আমিও দেখব! দরকার পড়লে আমি শিক্ষাব্যবস্থার স্বার্থে রাজভবনের সামনে ধর্নায় বসবো।”
মমতার হুঁশিয়ারির পাল্টা, মাঝরাতে VC নিয়োগ রাজ্যপালের








