সোনার দামে রেকর্ডের পর রেকর্ড। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা তুঙ্গে। তারই সরাসরি প্রভাব পড়ল ভারতের বাজারে। সোমবার ১০ গ্রাম সোনার দাম ১.৬০ লক্ষ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গেল, যা সর্বকালের উচ্চতম স্তর।
বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ড প্রতি আউন্স ৫,০০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার পরই দেশীয় বাজারে এই উল্লম্ফন। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে মুখ ফিরিয়ে সোনার দিকে ঝুঁকছেন, যার জেরে দাম কার্যত আগুন।
ভারতের বাজারে সোনার সর্বকালীন রেকর্ড
ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বাইতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম পৌঁছেছে ১০ গ্রামে ১,৬০,২৫০ টাকা। একই সঙ্গে ২২ ক্যারেট সোনা বিকোচ্ছে ১০ গ্রাম প্রতি ১,৪৬,৮৯০ টাকা দরে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই দামে GST ও মেকিং চার্জ অন্তর্ভুক্ত নয়।
সোনার পাশাপাশি রুপোর দামও নতুন উচ্চতায়। স্পট মার্কেটে রুপোর দাম বেড়ে প্রতি কেজি ৩,৩৫,০০০ টাকা, যা বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে কী চলছে?
আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম একদিনে প্রায় ১.৭৯ শতাংশ বেড়ে ৫,০৭১.৯৬ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছেছে। দিনের মধ্যেই দাম সর্বোচ্চ ৫,০৮৫.৫০ ডলার ছুঁয়েছিল। ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারও প্রায় একই হারে বেড়ে ৫,০৬৮.৭০ ডলার প্রতি আউন্সে লেনদেন হয়েছে।
কেন এত দ্রুত বাড়ছে সোনার দাম?
২০২৫ সালে সোনার দাম প্রায় ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে—
-
বিশ্বজুড়ে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা
-
মার্কিন নীতি শিথিলকরণের ইঙ্গিত
-
বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের বিপুল স্বর্ণ ক্রয়
-
চিনের ধারাবাহিক স্বর্ণ মজুত বৃদ্ধি
-
এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে (ETF) রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ
২০২৬ সালের শুরুতেই চলতি বছরে সোনার দাম ইতিমধ্যেই ১৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা বাজারের উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
ভারতে সোনার দামে কোন কোন বিষয় প্রভাব ফেলে?
ভারতে দৈনিক সোনার দামের উপর প্রভাব ফেলে আন্তর্জাতিক বাজারের হার, আমদানি শুল্ক, কর কাঠামো এবং টাকার বিনিময় হার। এই সব কারণ মিলিয়েই প্রতিদিনের দর নির্ধারিত হয়।
শুধু বিনিয়োগ নয়, ভারতে সোনার গুরুত্ব সাংস্কৃতিক ভাবেও অপরিসীম। বিয়ে, উৎসব কিংবা পারিবারিক সঞ্চয়ে সোনা আজও অন্যতম ভরসার নাম। তাই দামের এই ঊর্ধ্বগতি সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী—সবার কাছেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



