২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটের আগেই সোনার দাম ফের চড়ে উঠেছে, যা অর্থনীতির ক্ষেত্রে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত কয়েক দিন ধরে সোনার দাম বাড়তে শুরু করেছে, এবং এই সপ্তাহে তা আবার ৮০ হাজার টাকার গণ্ডি পার করেছে। বিশেষ করে কলকাতার বাজারে পাকা সোনার প্রতি ১০ গ্রাম দাম ৮৪ হাজার টাকারও বেশি হয়ে গেছে। বাজেটের আগে সোনার ওপর কোনও নতুন শুল্ক যোগ করা হতে পারে কিনা, তা নিয়ে জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সোনার মূল্য বৃদ্ধি লগ্নিকারীদের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কলকাতায় সোনার দাম বৃদ্ধি: ৮৪ হাজার টাকা ছাড়াল: কলকাতার বাজারে বর্তমানে সোনার দাম এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২২ ক্যারাট গয়না সোনার প্রতি ১০ গ্রামের দাম করযোগ করে ৮০ হাজার টাকাকে ছাড়িয়ে গেছে। এর পাশাপাশি, ২৪ ক্যারাট পাকা সোনার দামও অত্যধিক বেড়ে গেছে। শুক্রবার কলকাতার বাজারে সোনার দাম ছিল:
পাকা সোনা বার (২৪ ক্যারাট): ৮১ হাজার ৪০০ টাকা (প্রতি ১০ গ্রাম)
পাকা সোনা বার (খুচরো): ৮১ হাজার ৮০০ টাকা (প্রতি ১০ গ্রাম)
হলমার্কযুক্ত গয়না সোনা (২২ ক্যারাট): ৭৭ হাজার ৭৫০ টাকা (প্রতি ১০ গ্রাম)
রুপো (খুচরো): ৯২ হাজার ৫০০ টাকা (প্রতি কেজি)
এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, এসব দামে সোনা কেনা যাবে না। কেননা এই দামগুলোর সঙ্গে জিএসটি এবং গয়না তৈরির মজুরি যুক্ত হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোনার দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে প্রধানত বাজেটের আগে নতুন শুল্ক আরোপ হওয়ার আশঙ্কা এবং বাজারে অস্থিরতা রয়েছে।
সোনার দামে বৃদ্ধি কেন? বিশেষজ্ঞদের মতামত: বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সোনার দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হলো ২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটের আশঙ্কা। বাজেটের আগে অনেকেই সোনা কিনে রাখতে চাইছেন, যাতে আগামী দিনে সোনার মূল্য আরও বৃদ্ধি না পায়। গত বছরের পুজো মরসুমের মতো পরিস্থিতি আবার তৈরি হয়েছে, যেখানে সোনার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। পাশাপাশি, রুপোর দামেও বৃদ্ধি লক্ষণীয়, যা গত কয়েক দিনে এক হাজার টাকা বেড়েছে প্রতি কেজি দরে।
এছাড়া, একাধিক আন্তর্জাতিক কারণও সোনার দাম বৃদ্ধির পেছনে দায়ী। বিশেষ করে বিশ্ব বাজারে সোনার সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে এই দাম বৃদ্ধি হতে পারে। বর্তমানে ২২ ক্যারাট সোনার দাম ৮০ হাজার টাকার বেশি হওয়ায়, তা সোনার ভোক্তাদের কাছে বেশ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কলকাতার সোনার বাজার- জিএসটি ও মেকিং চার্জের প্রভাব: কলকাতার বাজারে বর্তমানে প্রতি ১০ গ্রাম পাকা সোনার দাম করযোগ করে ৮৪ হাজার ২৫৪ টাকা পৌঁছেছে। এই দাম ছাড়াও সোনা কিনতে গেলে আরও কিছু অতিরিক্ত খরচ থাকতে পারে, যেমন গয়না তৈরির মজুরি এবং অন্যান্য পরিষেবা চার্জ। সাধারণত, গয়না তৈরির মজুরি এবং অন্যান্য খরচ বাজারে এবং দোকান ভেদে আলাদা হয়ে থাকে। বিশেষ করে সোনা কেনার সময় এই সমস্ত চার্জগুলি যোগ হয়ে সোনার দাম আরও কিছুটা বাড়িয়ে দেয়।
বাজেটের পূর্বাভাস- সোনায় নতুন শুল্কের সম্ভাবনা: ২০২৫ সালের বাজেটের আগে সোনার ওপর কোনও নতুন শুল্ক আরোপ হবে কিনা, তা নিয়ে নানা ধরনের গুজব চলছে। যদি সোনার ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়, তবে এর ফলে সোনার দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সোনা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তবে কিছু লগ্নিকারী দীর্ঘমেয়াদী লাভের জন্য সোনা সংগ্রহ করতে চাইছেন।



