ভারতে সোনার দাম আজ আকাশছোঁয়া পর্যায়ে পৌঁছেছে। হু হু করে বেড়ে চলা এই ধাতুর দামের কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের ওঠানামা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনার মজুত বাড়ানোর প্রবণতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশের আমদানি শুল্ক ও টাকার দামের পতন। সব মিলিয়ে আজকের দিনে সোনার দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদে সোনা সবসময়ই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়। বাজার যতই অস্থির হোক না কেন, সোনার দাম কখনও শূন্যে নামে না। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার মূল্যবৃদ্ধি হয়। তাই বহু বিনিয়োগকারী এখনও সোনাতেই ভরসা রাখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পোর্টফোলিও বৈচিত্র্য আনতে সোনায় বিনিয়োগ ভবিষ্যতেও লাভজনক হতে পারে।


অন্যদিকে, সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এই বাড়তি দাম এখন চিন্তার কারণ। উৎসবের মরসুমে যাঁরা সোনা কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁদের বাজেট চাপে পড়ছে। বিশেষ করে বিয়ে বা বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য সোনার গয়না কেনার ইচ্ছে যাঁদের ছিল, তাঁদের জন্য এই দাম বড় ধাক্কা।
মঙ্গলবার ২৩ সেপ্টেম্বর ফের বদলেছে সোনার দাম। আজকের হিসাবে ২২ ক্যারেট সোনার দাম হয়েছে প্রতি গ্রামে ১০,৭২০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম হয়েছে প্রতি গ্রামে ৮,৮০০ টাকা। একই দিনে রুপোর দামও হু হু করে বেড়ে প্রতি কেজি ১,৩৪,১৮২ টাকায় পৌঁছেছে। সোনা ও রুপো কেনার সময় উপরে দেওয়া দামের সঙ্গে আরও ৩ শতাংশ জিএসটি যুক্ত হবে।
গত কয়েক বছরে সোনার দাম বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত। স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটি (SSBC)-র তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা অন্যান্য সম্পদের পাশাপাশি সোনাতেও বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। এর ফলে দেশীয় বাজারে চাহিদা এবং আমদানির চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোনার দাম আকাশছোঁয়া হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও লাভজনক বিনিয়োগ। তবে ক্রেতাদের উচিত সঠিক সময়ে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করা। উৎসবের মরশুমে অনেকেই সোনার দামের দিকে নজর রাখছেন, যাতে সুযোগ বুঝে কেনাকাটা করতে পারেন।
সোনার বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ভারতের অর্থনীতি এবং সাধারণ ক্রেতা দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলছে। যাঁরা বিয়ে, অন্নপ্রাশন বা অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য সোনার গয়না কেনার কথা ভাবছেন, তাঁদের এখন বিকল্প পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে, তাই দাম আরও বাড়ার আগেই ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।







