সোনার দাম (Gold Price) নিয়ে অবশেষে এলো সুখবর। বছরের পর বছর ধরে যে ভাবে হলুদ ধাতুর দাম বাড়ছিল, তাতে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিল গয়না। তবে এবার সেই দাম নামতে পারে লাখের গণ্ডির নীচে। কেন্দ্রীয় সরকার সোনা ও রুপোর বেস ইমপোর্ট প্রাইজ (Base Import Price) কমিয়ে দিয়ে সোনার বাজারে স্বস্তি ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
নতুন বেস ইমপোর্ট প্রাইজ ঘোষণা করেছে সরকার
সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতি ১০ গ্রাম সোনার নতুন বেস ইমপোর্ট মূল্য ধার্য হয়েছে ৪২ ডলার। অন্যদিকে রুপোর ক্ষেত্রে নতুন মূল্য ধরা হয়েছে প্রতি কেজিতে ১০৭ ডলার। আমদানি মূল্য কমানোয় কাস্টমস ডিউটি বা আমদানি শুল্কের চাপ অনেকটাই কমবে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে দেশের সোনা বাজারে।


এই সিদ্ধান্তের ফলে সোনার দাম কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের অনুমান। ইতিমধ্যেই ধনতেরাসের পরে কিছুটা দাম কমেছিল, কিন্তু এবার এক ধাক্কায় আরও বড় পতনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বেস ইমপোর্ট প্রাইজ কমানো?
বেস ইমপোর্ট প্রাইজ হল সেই মানদণ্ড, যার ভিত্তিতে কোনও আমদানি পণ্যের উপর কর নির্ধারণ করা হয়। প্রতি পনেরো দিন অন্তর এই দাম আপডেট হয়। ফলে সোনার বেস প্রাইজ কমানো মানে সরাসরি আমদানি খরচ কমে যাওয়া, এবং সেই সঙ্গে ক্রেতাদের জন্য সোনা আরও সাশ্রয়ী হয়ে ওঠা।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল সোনার দাম নিয়ন্ত্রণ করা এবং অন্তর্দেশীয় বাণিজ্য বাড়ানো। আমদানি শুল্কের বোঝা কমলে দেশীয় বাজারে সোনার দরও নেমে আসবে। এর ফলে গয়নার দামেও বড় প্রভাব পড়বে, যা উৎসবের মরশুমে মধ্যবিত্তদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াবে।


বিশ্ববাজারে ভারতের ভূমিকা
বর্তমানে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা আমদানিকারক দেশ। প্রথম স্থানে রয়েছে চিন। রুপো আমদানির ক্ষেত্রেও ভারত শীর্ষস্থানে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের সোনা আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশই আসে সুইৎজ়ারল্যান্ড থেকে, ১৬ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এবং প্রায় ১০ শতাংশ দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে।
২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ভারত প্রায় ৪৮টি দেশ থেকে সোনা আমদানি করেছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সেই আমদানি বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশেরও বেশি। এই ক্রমবর্ধমান আমদানি খরচ কমাতে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণে কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব
অর্থনীতিবিদদের মতে, সোনার দাম যদি লাখ টাকার নিচে নামে, তবে পুনরায় বাজারে ক্রেতার ভিড় বাড়বে। দীপাবলির পর থেকেই সোনার চাহিদা কিছুটা কমলেও, দামের পতনের খবর শোনা মাত্রই বিক্রি আবার চাঙ্গা হতে পারে। এটি দেশের জুয়েলারি ইন্ডাস্ট্রি (Jewellery Industry) এবং রিটেল মার্কেট উভয়ের পক্ষেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সোনার দামের এই সম্ভাব্য পতনে সাধারণ মানুষ যেমন উপকৃত হবেন, তেমনই বিনিয়োগকারীদের জন্যও এটি হতে পারে এক সোনালী সুযোগ।







