ইউনেস্কোর স্বীকৃতির পর এবার দুর্গাপুজোকে আরও বৃহত্তর আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার উদ্যোগ। বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাংস্কৃতিক উৎসবকে বিশ্বদরবারে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে বিশেষ পরিকল্পনা নিচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, এ বছরের দুর্গাপুজোয় বিদেশি রাষ্ট্রনেতা, কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের বাংলায় আমন্ত্রণ জানানোর ভাবনা চলছে।
বিজেপির শীর্ষ মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে কীভাবে বাংলার দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরা যায়। রাজনৈতিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাঙালি ও ভারতীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে উৎসবের সংযোগ আরও গভীর করা।


পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দুর্গাপুজোর সময় কলকাতায় উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের মতো শীর্ষ নেতারা। গত বছর দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কে দুর্গাপুজোয় অংশ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এবার পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে কলকাতাতেই তাঁর পুজো উপলক্ষে উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেই দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বিশেষ কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি করা হতে পারে। সেই পরিকল্পনায় সাংস্কৃতিক প্রচার, আন্তর্জাতিক অতিথি আমন্ত্রণ এবং বিশ্বব্যাপী প্রচারাভিযানের মতো বিষয়ও থাকতে পারে।
তবে উৎসবের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় রীতিনীতির ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেই বলেই দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের। বরং প্রাচীন ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখেই দুর্গাপুজোর আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।


এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে ‘ওভারসিজ ফ্রেন্ডস অফ বিজেপি’ সংগঠন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সক্রিয় এই সংগঠনের মাধ্যমে বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় এবং বাঙালি সম্প্রদায়ের কাছে দুর্গাপুজোর বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা, ইউরোপ এবং আফ্রিকার একাধিক দেশে সংগঠনটির সক্রিয় নেটওয়ার্ক রয়েছে।
শুধু পুজো নয়, বিসর্জন পর্বকেও আরও আকর্ষণীয় করে তোলার ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। অতীতে যে কার্নিভাল আয়োজন করা হতো, তার কাঠামো ও উপস্থাপনায় কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
ইতিমধ্যেই ইউনেস্কোর ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলার দুর্গাপুজো। এবার সেই স্বীকৃতিকে পাথেয় করে বিশ্বের সাংস্কৃতিক মানচিত্রে এই উৎসবকে আরও উজ্জ্বলভাবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই নতুন পরিকল্পনা এগোচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



