ঘাটাল মাস্টার পরিকল্পনা না হয়াতে উদ্বেগ বাড়ছে সব মহলে

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ঘাটাল মাস্টার পরিকল্পনা স্থগিত তাই ঘাটালে প্রতেক বর্ষার নিত্য বন্যা লেগেই থাকে। ঘাটাল বাসিদের ঘর -বাড়ি, চাষের জমি অধিকাংশ বার জলে তলিয়ে যায়, এলাকাবাসী প্রাই এই ব্যাপার সাহায্য চেয়েছেন। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান  হওয়ার ফলে প্লাবন পরিস্থিত বলেই দাবি সকলের। যদিও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত না হওয়ার জন্য কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত জারি করেছে।

আরও পড়ুনঃপ্রবীণদের জন্য় নয়া নিয়ম জারি করল ভারতীয় ডাকঘর

শিলাবতী, কংসাবতী এবং দ্বারকেশ্বর নদের শাখা নদী ঝুমির লীলাভূমি হিসাবে পরিচিত এই ঘটাল। স্থানীয় ভূস্বামীরা সার্কিট বাঁধ দিয়ে এই নদীগুলির বন্যা প্রবণতা ঠেকাতে নিজেদের প্রচেষ্টাই নিচু এলাকাগুলিকে বন্যা থেকে বাঁচিয়ে আবাদি জমি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়।

ঘাটাল মাস্টার পরিকল্পনা স্থগিত কিন্তু জমিদারি আমলের এই বাঁধগুলি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। তার ফলে বাঁধগুলি ভেঙেই মূলত ঘাটালে  বন্যা দেখা দেয় নিত্য বছর বর্ষায়। উলটোদিকে জোয়ারের সঙ্গে আসা পলি নদী বাঁধ বেড়িয়ে আস্তে  না পেরে নদীতেই জমতে থাকে পলি মাটি। সেখান থেকেই নদীর জল ধারণ ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। আর  বন্যা প্রবণতাও বাড়তেই থাকে।

ঘাটাল মাস্টার পরিকল্পনা

সেচ দপ্তর জানান যে,বাকুড়া হয়ে হলদি নদীতে মিশেছে জল যার ফলে বন্যা প্রবাহের ৭০ ভাগ জল ওল্ড কাঁসাই ও ৩০ ভাগ জল নিউ কাঁসাই দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে ।  শিলাবতী নদীই হল প্রধান কারন এই বন্যার । ইংরেজ আমল থেকেই শিলাবতী নদী সংস্কার করা হয়নি,ফলে বন্যা প্রবণতা ক্রমশ বেড়েই চলেছে বলে জানিয়েছে সেচ দপ্তরের গবেষনায় জানা।

বন্যা থেকে বাঁচতে সংস্কারের কথা অনুযায়ী ১৯৫২ সালে লোকসভায় প্রথম তুলে ধরেন ঘাটালের নিকুঞ্জবিহারী চৌধুরী তৎকালীন বাম সাংসদ । বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ১৯৫৯ সালে নদী বিশেষজ্ঞ মান সিংয়ের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করেন। সেই কমিশনই ঘাটাল এলাকায় বন্যা প্রতিরোধ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট জমা দেয়। তারপর সেতি  স্থির হয়ে যায়। ১৯৭৭ সালে রাজ্যে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পর ১৯৮২ সালে ১০ ফেব্রুয়ারি সেচ মন্ত্রী প্রভাস রায় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের শিলান্যাস করেন ,এর ঠিক সেই শিলান্যাসই সম্বল।

এই থেমে যাওয়া প্রকল্প  আর শুরু হয়নি তার পর থেকে শুধুই রাজনীতির আর রাজনীতি। এই প্ল্যানের মধ্যে রয়েছে দুই মেদিনীপুরের ১২ টি ব্লক সহ পাঁচটি পৌর এলাকা, যার  আয়তন ১৬৫৯ বর্গকিলোমিটার। প্রচুর ঘরবাড়ি, ফসল, জীবনহানিও হয়েছে আর সেখানেই বহুবার বন্যার সম্মুখিন হতে হয়।  পরিসংখ্যান বলছে, এ পর্যন্ত বন্যায় মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৭০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। হঠাৎ ২০০৮ সালে ফের ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান আলোচনা হয় । মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর উদ্যোগের ফের নতুন রূপ  এই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান । কেন্দ্রীয় সংস্থা WAPCOS কে দিয়ে একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়। ১৪৬০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করে। তা রাজ্য সরকার কেন্দ্র সরকারের কাছে পাঠিয়ে দেয়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ফের মাস্টার প্ল্যান নিয়ে আলোচনা শুরু হয় ২০১৫ সালে গঙ্গা ফ্লাড কন্ট্রোল কমিশন দ্বারা অনুমোদিত হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ছাড়পত্র  বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় । প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত পেলেও অর্থ দপ্তরের ছাড়পত্র আজও পায়নি,তবে প্রকল্প খরচ বহুগুণ বেড়ে গিয়ে। মন্ত্রী বদল ঘটেছে সেচের, ঘাটালের নদীর গতিপথ থেকে শুরু করে ভৌগোলিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান তখনও রয়ে গিয়েছে তিমিরেই। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে রাজনীতি কিন্তু থেমে নেই। সর্বশেষ  প্রকল্প খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা।

ঘাটাল মাস্টার পরিকল্পনা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে একটি কমিটি গঠন করে কেন্দ্রে দরবার করা হবে। ” ঘাটালের সাংসদ দেব বলেছেন, “দিদি প্রধানমন্ত্রী না হলে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ হবে না।” তা জনান  সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র । অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাটের গলায় অন্য সুর। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার টাকা নিয়ে কাজ করছে না কেন  রাজ্য? যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণ নায়েক বলেন, কাজের থেকে রাজনীতির করতেই ব্যস্ত থেকেছেন সরকারের লোকজন। ফলে ঘাটাল মাস্টার প্লানের কাজ সেই তিমিরেই পড়ে রয়েছে। এটা ঘাটালের মানুষের দুর্ভাগ্য।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন