পশ্চিমবঙ্গের উচ্চপ্রাথমিক স্তরের কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষা নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ আরও গভীর হল। SSC (School Service Commission)-র এই নিয়োগ নিয়ে সিবিআই (CBI) তাদের প্রাথমিক চার্জশিটে যে তথ্য পেশ করেছে, তা রীতিমতো চাঞ্চল্যকর।
সিবিআই জানিয়েছে, তারা তদন্তে পেয়েছে—এই দুটি বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগে বিপুল টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রি হয়েছে। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, একাধিক নথি ঘেঁটে এই দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে।
আদালতের কড়া বার্তা: ১ জুলাইয়ের মধ্যে দিতে হবে ব্যাখ্যা
বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এই মামলার শুনানিতে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন—“যদিও এই নিয়োগে সরাসরি কোনও তদন্তের নির্দেশ এখনও দেওয়া হয়নি, তবুও সিবিআইয়ের চার্জশিটে যেহেতু টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে, তাই এটি উপেক্ষা করা যায় না।”
আদালত নির্দেশ দিয়েছে:
-
সিবিআইকে ১ জুলাইয়ের মধ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে।
-
এসএসসি-কে কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষার নিয়োগে সম্পূর্ণ মেধাতালিকা আদালতে জমা দিতে হবে।
শূন্যপদের অঙ্কে গরমিল, উঠছে নতুন প্রশ্ন
ঘোষিত শূন্যপদের সংখ্যা ছিল:
কর্মশিক্ষা: ১,২৩৭
শারীরশিক্ষা: ১,০১৯
কিন্তু আদালতে জানানো হয়েছে যে, পরে অতিরিক্ত নিয়োগ হয়েছে:
কর্মশিক্ষা: আরও ৭৫০
শারীরশিক্ষা: আরও ৮৫০
এই অতিরিক্ত শূন্যপদ কোথা থেকে এলো? কাদের নিয়োগ করা হয়েছে এই জায়গাগুলিতে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর নিয়েই এবার উত্তপ্ত হচ্ছে রাজ্য রাজনীতি ও আদালত।
SSC দুর্নীতির অতীত এবং বর্তমান
SSC নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে একাধিক হাই-প্রোফাইল নেতা, কর্মকর্তা জড়িয়েছেন এবং অনেকে জেল হেফাজতেও রয়েছেন।
এই নতুন কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতি SSC কেলেঙ্কারিকে আরও বিস্তৃত রূপ দিল। সিবিআই এখন পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজর রাখছে।
নিয়োগ প্রার্থীদের দাবি
নিয়োগপ্রার্থীদের একাংশ দাবি করছেন,“আমরা মেধাতালিকায় নাম পেয়েও চাকরি পাইনি। অথচ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ করা হয়েছে—এই অভিযোগ সত্যি হলে, তা মেনে নেওয়া যায় না।”
রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ
এই ঘটনায় রাজ্য সরকার, এসএসসি ও শিক্ষা দফতরের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী যদি প্রমাণ মেলে, তবে আরও বড়সড় গ্রেফতারি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



