ক্রিকেটার হিসেবে ফাইনালের মঞ্চে বহুবার নিজের ছাপ রেখেছিলেন গৌতম গম্ভীর। এবার কোচ হিসেবেও সেই একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন তিনি। ভারতের প্রধান কোচ হওয়ার পর মাত্র দু’বছরের মধ্যেই দলকে জিতিয়ে দিলেন দু’টি আইসিসি ট্রফি— গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং এ বছর টি-২০ বিশ্বকাপ। আহমেদাবাদে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে ভারতের এই জয়ের নেপথ্যে বড় কৃতিত্ব গম্ভীরের কৌশল ও নেতৃত্বের।
গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে ফাইনালের সাফল্যের সম্পর্ক নতুন নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর সেই গল্প শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত সেই প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৭৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচ জিতেই ভারত প্রথমবারের মতো টি-২০ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়।
চার বছর পর ২০১১ সালের এক দিনের বিশ্বকাপেও ফাইনালের নায়ক ছিলেন গম্ভীর। মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে রান তাড়া করতে নেমে তিনি খেলেছিলেন ৯৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। সেই ইনিংসই ভারতের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
জাতীয় দলের পর আইপিএলেও অধিনায়ক হিসেবে সফল ছিলেন গম্ভীর। কলকাতা নাইট রাইডার্সের নেতৃত্বে ২০১২ এবং ২০১৪ সালে আইপিএল জিতেছিল কেকেআর। এরপর কিছু বছর ট্রফির খরা চললেও, মেন্টর হিসেবে ফিরে এসে ২০২৪ সালে আবারও কেকেআরকে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন করান তিনি।
এই সাফল্যের ধারাবাহিকতাই তাঁকে ভারতের প্রধান কোচের দায়িত্ব এনে দেয়। নতুন ভূমিকাতেও গম্ভীর সেই একই মানসিকতা বজায় রেখেছেন। তাঁর কোচিংয়েই গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত।
এবার সেই সাফল্যের তালিকায় যোগ হল টি-২০ বিশ্বকাপ। রবিবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে টিম ইন্ডিয়া।
সব মিলিয়ে আবারও প্রমাণ হল— গৌতম গম্ভীর ফাইনালে নামেন জয়ের লক্ষ্য নিয়েই। ক্রিকেটার হিসেবে যেমন, কোচ হিসেবেও তাঁর সেই জয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত।



