গান গাওয়ার কাজের টোপ দিয়ে এক নাবালিকাকে দক্ষিণ কলকাতার গড়ফার একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ উঠল। তদন্তকারীদের দাবি, নাবালিকাকে যৌন ব্যবসায় নামানোর পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তদের। খবর পেয়েই দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম আশিস ভরদ্বাজ, শেখ সাহাবুদ্দিন, মুজ্জাফর হোসেন এবং স্বরূপ দাস। অভিযোগ, ওই নাবালিকা একটি পানশালায় গান গাওয়ার কাজ করত। সেই সূত্রেই হোটেলের কর্মীদের নজরে আসে সে।
অভিযোগ, গড়ফার ওই হোটেলে গান গাইলে মোটা টাকা পারিশ্রমিক মিলবে—এই প্রলোভন দেখিয়ে নাবালিকাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর একটি ঘরে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। বেশ কয়েকদিন ধরে নাবালিকাকে কার্যত বন্দি করে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও গুরুতর তথ্য সামনে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, শুধু আটকে রাখাই নয়, ওই নাবালিকাকে যৌন ব্যবসায় নামানোর পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। এমনকী সম্ভাব্য খদ্দেরের সন্ধান শুরু হয়ে গিয়েছিল বলেও অভিযোগ।
তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই গোটা ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। কোনওভাবে হোটেল থেকে এক পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয় নাবালিকাটি। তাকে নিজের পরিস্থিতির কথা জানানোর পর ওই পরিচিত দ্রুত পুলিশের দ্বারস্থ হন।
খবর পেয়েই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। গড়ফার সংশ্লিষ্ট হোটেলে অভিযান চালানো হয়। তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকেই নাবালিকাকে উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে ঘটনাস্থলে চার অভিযুক্তকেও গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
গ্রেফতারের পর চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পিছনে আরও কেউ রয়েছে কি না, নাবালিকাকে কীভাবে হোটেলে নিয়ে আসা হয়েছিল এবং তাকে আটকে রাখার ঘটনায় আর কারও ভূমিকা ছিল কি না—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের তৎপরতায় দ্রুত নাবালিকাকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ঘটনার নেপথ্যে থাকা পুরো চক্রের সন্ধান করাই এখন তদন্তকারীদের অন্যতম লক্ষ্য। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এই ঘটনায় আরও কারও নাম সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে পুলিশের।



