দিঘা উপকূলেই আছড়ে পড়বে যশ, রবিবার সন্ধ্যার মধ্যেই উপকূলে ফেরার নির্দেশ মৎস্যজীবীদের

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ দীঘার উপকূলেই আছড়ে পড়বে যশ, একে করোনায় রক্ষে নেই আবার দোসর হয়ে আসতে চলেছে ‘যশ’। তাই নিয়ে আশঙ্কার দানা বাঁধতে শুরু করেছে বাংলা সহ দেশের পূর্ব প্রান্তের একাধিক রাজ্যে। প্রসঙ্গত দুদিন আগেই দেশের পশ্চিম উপকূলে প্রবল তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘টাউকেট’। কার্যত লণ্ডভণ্ড পশ্চিমের মুম্বাই, গুজরাট সহ একাধিক রাজ্য। বর্তমানে শক্তি কমে গেলেও প্রবল বর্ষণ চলছে উত্তরাখণ্ড, ঝাড়খণ্ডের মত রাজ্যে। তার মধ্যেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সঙ্গে রাজ্যেও ফিরে আসছে আমফানের স্মৃতি।

আরও পড়ুনঃ এই আকালেও…মেদিনীপুরের সরকারি হাসপাতাল থেকে চুরি গেলো করোনার টিকা

গত বছরের আমফানের ঘা এখনো স্পষ্ট মানুষের মনে। সাগর পাড়ের মানুষেরা সবে সবে ফীরে আসছিলো নিজেদের আগের জীবনে, তার মধ্যেই চোখ রাঙাচ্ছে  ‘যশ’। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এই ঘূর্ণিঝড় নতুন করে আশঙ্কা তৈরি করেছে সাধারণ মানুষ থেকে প্রশাসন সব মহলেই।

গতকালই দক্ষিন চব্বিশ পরগণার জেলাশাসকের নেতৃত্বে বৈঠকে ঠিক একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বারবার সতর্ক করা হয়েছে নবান্নের তরফ থেকেও।  আশঙ্কা সত্যি হলে কলকাতা লাগোয়া দুই জেলা ও পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা, শঙ্করপুরের মতো সামুদ্রিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বলেই সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

আগাম প্রস্তুতি হিসেবে তৈরি রাখতে বলা হয়েছে উপকূলবর্তী সাইক্লোন সেন্টারগুলিকে। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার, পানীয় জল, ওষুধ মজুত রাখতে নির্দেশ। মত্‍স্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিদ্যুত্‍ দফতর, বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সমস্ত কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের খবর অনুযায়ী আগামি ২২সে মে শনিবার ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে মধ্য বঙ্গোপসাগরে। আন্দামানের কাছে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে রবিবার এটি নিম্নচাপে পরিণত হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সুরক্ষার কথা ভেবে আগামীকাল অর্থাৎ  শুক্রবার থেকেই আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ, বাংলা-ওড়িশা উপকূলে মৎস্যজীবীদের রবিবার সন্ধ্যার মধ্যে উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার পর থেকে কার্যত সমুদ্রে যেতে মানা করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের। আবহাওয়া দপ্তরের খবর অনুযায়ি ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বইবে ঝোড়ো হাওয়া, আর রাজ্যের একাধিক জেলাতে এর প্রভাব পড়লেও মূলত ঘূর্ণীঝড় আছড়ে পড়বে দিঘা উপকূলেই বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে এই ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে রাজ্যে ঠিক সময়ে বর্ষা আসবে বলেই  ্মনে করা হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন