নজরবন্দি ব্যুরো: শীলভদ্র দত্তের পদত্যাগ দুঃখজনক, শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। তবে তার আগেই তৃণমূল শিবির একের পর এক ধাক্কা খাচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী, জিতেন্দ্র তিওয়ারি সহ এক এক করে অনেকেই দল ছাড়তে শুরু করেছেন। সেই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন ব্যারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত। সকলকে চমকে দিয়ে শুক্রবার তিনিও দলত্যাগ করলেন। এবার এই ব্যপারে মুখ খুললেন তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।
আরও পড়ুন: ৩ আইপিএস অফিসারকে ডেপুটেশন! কেন্দ্রকে এক হাত নিয়ে রাজ্যের পাশে অধীর


তিনি বলেছেন, “শীলভদ্র দত্তের পদত্যাগ দুঃখজনক। যখন লিভারে অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁর অর্থ ছিল না তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত খরচ দিয়েছিলেন। স্থানীয় কিছু সমস্যার জন্য তাঁর দল ছাড়া উচিত নয়।” তিনি আরও বলেন, “সেই সিঙ্গুর – নন্দীগ্রাম থেকে মানুষের জন্য কাজ করছে তৃণমূল। আমাদের আদর্শ বলে, আমরা মুখ্যমন্ত্রীর পাশে সবসময় থাকব।” অন্যদিকে নাম না করে জিতেন্দ্র তিওয়ারিকেও একহাত নেন ফিরহাদ। তিনি বলেন, “অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে সুখে থাকা যায় না। যাঁরা এক সময় দলে থাকার শপথ নিয়েছিলেন, যাঁরা দলের থেকে অনেক কিছু পেলেন, তাঁরাই বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই আসানসোল আজ পৃথক পুরনিগম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই ৬৮ কোটি টাকা পেয়েছে পুরনিগম।” তাই আসানসোলের উন্নয়ন নয়, অন্য কোনও চাপের কারণেই এই ঘটনা বলে মনে করেন ফিরহাদ।
ফিরহাদ হাকিমের পাশাপাশি শীলভদ্র দত্তর দল ছাড়া নিয়ে মন্তব্য করেছেন কুণাল ঘোষও। তিনি বলেন, “২০১৬ সালে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, আমিই ২৯৪টি আসনে প্রার্থী, তখন এঁরা সবাই কোথায় ছিলেন? তখন তো কেউ কিছু বলেননি।” কুণালবাবুর প্রশ্ন, “যাঁরা বিজেপিতে দীর্ঘ দিন ধরে এই সব নেতাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন, তাঁরা এবার সেই নেতাদের নিয়ে জিন্দাবাদ বলতে পারবেন তো?”
শীলভদ্র দত্তের পদত্যাগ দুঃখজনক, এদিনই তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্য পদে ইস্তফা দেন ব্যারাকপুরে বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত। এদিন চিঠিতে শীলভদ্র লেখেন, ‘আমি দলের পার্থমিক সদস্য পদ এবং সহযোগী সংগঠনের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি।’ পাশাপাশি তাঁকে সুযোগ দেওয়ার জন্য তৃণমূলনেত্রীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন শীলভদ্র।









