নজরবন্দি ব্যুরো: বুধবার সকালেই আচমকা নিজাম প্যালেস থেকে চারটি গাড়ি ও একটি সিআরপিএফ-এর গাড়ি প্রথমে সিজিও কমপ্লেক্সে আসে। তারপর সেখান থেকেই সোজা সল্টলেকের বিকাশ ভবনে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরে চলে যান তদন্তকারী আধিকারিকরা। আর সেই দফতরেই বসেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। এরপরে সেখানে বেশ কিছুক্ষণ তল্লাশি অভিযান চলে।
আরও পড়ুন: ‘তর্ক-বিতর্কের সময় নয়’, করমণ্ডল বিপর্যয়ে CBI তদন্ত প্রসঙ্গে ‘চুপ’ মমতা
তবে শুধু পুর ও গরোন্নয়ন দফতর নয়, রাজ্যের একাধিক পুরসভায়ও হানা দিয়েছেন সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। এই সব পুরসভায় গুলির মধ্যে রয়েছে টিটাগড়, শান্তিপুর, পানিহাটি, দক্ষিণ দমদম, হালি শহর পুরসভাও। সিবিআই সূত্রে খবর, কিভাবে পুরসভা গুলিতে নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে? সেই সব খতিয়ে দেখতেই আজকের এই হানা। তাছাড়াও নিয়োগ দুর্নীতিতে বেশ কয়েকদিন আগেই প্রকাশ্যে এসেছিল ব্যারকপুর মহকুমার বিভিন্ন পুরসভার নাম। আর সেই পুরসভাতে অয়ন শীলের মারফত যে সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, সেই সব খতিয়ে দেখতেই তদন্ত শুরু করেছেন আধিকারিকরা।

এরপরেই CBI এর হানার প্রসঙ্গে মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। এই বিষয়ে বলতে গিয়েই সর্ব প্রথম ফিরহাদ জানান যে, তিনি ‘রাজনীতির’ গন্ধ পাচ্ছেন। তাঁর জানাই নেই যে কি কারণে বা কোন উদ্দেশ্যে এ দিনের হানা! তবে বেশ কিছুটা কটাক্ষ করেই তিনি বলেন, “পুরোটাই রাজনীতি! যে দোষ করেছে তাঁকে শাস্তি পেতেই হবে। আমি জানতে পেরেছিলাম যে, চুঁচুড়া পুরসভায় নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে। তাই সেটা বাতিল করেছি। কিন্তু কোন পুরসভায় কী হয়েছে সেটা তো মন্ত্রীর জানার কথা নয়।”

প্রসঙ্গত, রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুরসভা নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য পান তদন্তকারী আধিকারিকরা। অভিযোগ উঠে যে, পুরসভার বিভিন্নপদে নিয়োগের ক্ষেত্রে টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রি করা হয়েছে। কাঁচরাপাড়া থেকে শুরু করে নিউ ব্যারাকপুর, কামারহাটি, টিটাগড়, বরাহনগর, টাকি, হালিশহর, দমদম, উত্তর দমদম-সহ প্রায় কুড়িটিরও বেশি পুরসভার নিয়োগে দুর্নীতির করা হয়েছে বলেই দাবি করেন তদন্তকারীরা। কাদের বা কার মাধ্যমে নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে? কিংবা কোথায় কোথায় নিয়োগ হয়েছে? এই দুর্নীতির সঙ্গে কারা কারা জড়িত? এই সব একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তল্লাশি চালাচ্ছেন সিবিআইয়ের আধিকারিকরা।
পুরোটাই রাজনীতি, CBI-র হানার প্রসঙ্গে মুখ খুললেন ফিরহাদ




