নজরবন্দি ব্যুরোঃ আলাপন-বদলির প্রেক্ষাপটই ভুল! গত কয়েকদিন ধরেই গোটা রাজ্য-রাজনীতি কার্যত তোলপাড় রাজ্যের মুখ্যসচিব কে বদলি নিয়ে। আজ অর্থাৎ মে মাসের শেষ দিনে রাজ্যের মুখ্যসচিব পদের মেয়াদ এবং তাঁর চাকরি জীবনের শেষ দিন ছিলো, কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরেই কর্মে পটু এবং নির্বাচন সহ রাজ্যের আমফান করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার অভিজ্ঞতা থাকায় নতুন সরকার চেয়েছিল আরও তিনমাস আলাপনই থাকুন রাজ্যের মুখ্যসচিব।
আরও পড়ুনঃ বেহালা চৌরাস্তায় হামলা বৈশালী ডালমিয়ার ছেলের ওপর, চুরমার গাড়ি, রক্তাক্ত ছেলে


কেন্দ্রের কাছে সেই মতো আবেদন করায় কেন্দ্র গ্রিন সিগন্যাল পাঠিয়েছিল, কিন্তু গোল বেঁধেছে কদিন আগেই। এক রাতের নোটিসে তড়িঘড়ি মুখ্যসচিব পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে দিল্লি তলব করা হয়েছে তাঁকে। আর তার পর থেকেই রাজ্য রাজনিতিত আবহ এই মুহুর্তে আবর্তিত হচ্ছে কার্যত তাঁকে কেন্দ্র করেই। রাজ্যের শাসক-বিরোধী সব দল এক বাক্যে জানিয়েছেন বাংলা কায়েম করতে না পেরে হারের ঝাল মেটাচ্ছে কেন্দ্র, প্রাক্তন আমলারাও মুখ্যসচিবের অবসরের আগের দিন আচমকা দিল্লি তলবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া কিছু খুঁজে পাননি। অনেকেই জানিয়েছেন আলাপনের এই বদলির ডাক বেআইনি।
এই প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম, তারঁ মতে এই নোটিস বেআইনি না হলেও সম্পুর্ণ অনৈতিক। তাঁর মতে চাকরি জীবনের শেষ আজ আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এর বাইরে তিনমাস তাঁর চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল নির্দিষ্ট কারনে, এক কথায় স্পেশ্যাল পারপাসে এক্সটেন্ডেড। রাজ্যের দরকারের কারণে এবং কেবল মাত্র মুখ্যসচিব পদে নিজের কাজ করে যাওয়ার জন্যই মেয়াদ বাড়িয়েছিল কেন্দ্র।
এই পরিস্থিতিতে এক্সটেন্ডেদ মেয়াদের আগে আচমকা তাঁকে দিল্লি ডেকে নেওয়া হলে সেই কারণ আর থাকেনা। তিনি জানিয়েছেন IAS কর্মী হওয়ার সুবাদে তাঁর ওপর কেন্দ্র নির্দেশ চাপাতেই পারে, কিন্তু তাঁর মেয়াদ উত্তীর্ণ, বিশেষ ভাবে বাংলায় মুখ্যসচিব হিসেবেই বহাল থাকতে পারবেন তিনি একমাত্র। এই মুহুর্তে কেন্দ্র তলব করলেও তা অনৈতিক।


আলাপন-বদলির প্রেক্ষাপটই ভুল! ফিরদৌস শামিমের মতে কেন্দ্র বদলি করার ক্ষমতা থেকেই বদলি করেছে, কিন্তু খতিয়ে দেখেনি প্রেক্ষাপট কী। সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন এই প্রেক্ষাপটের ভিত্তি তুলে রাজ্য মামলা করলে কেন্দ্রের কোন নোটিস এবং অধিকার ধোপে টিকবে না সুপ্রিম কোর্টের দরজায়। তিনি আরও জানান আজ চাকরি জীবনের শেষ রাজ্যের মুখ্যসচিবের। এর পরে দিল্লি বদলি করেই কোন ভাবেই এক্সটেন্ডেট পিরিওয়ডে তাঁকে অন্য দপ্তরে নিয়োগ করা যায়না।







