বোলপুর, ৩০ মে: বীরভূম জেলার তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল ফের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। একটি ভাইরাল অডিও ক্লিপ ঘিরে চাপে পড়েছেন তিনি। সেই অডিওতে এক ব্যক্তিকে বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দিতে শোনা যায়, যার সঙ্গে অনুব্রতের নাম যুক্ত হয়েছে।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই পুলিশের পক্ষ থেকে অনুব্রতের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব নির্দেশ দিয়েছে চার ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে।
বীরভূমের পুলিশ সুপার আমনদীপ জানান, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সরকারি কাজে বাধা, কর্তব্যরত কর্মীকে হুমকি, এবং শ্লীলতাহানি সংক্রান্ত অভিযোগ।
কোন দাদাগিরি চলবে না তৃণমূলে, গ্রেফতার হতে চলেছেন অনুব্রত, পাশে নেই দল

🏛️ দলের কড়া বার্তা:
তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, দলের মুখপাত্রেরা সকালে এই বিষয়ে দলের অবস্থান জানতে চাইলে, শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়ে দেন ‘নো কমেন্টস’ বলার সময় নেই। এরপর দুপুরে দলের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, অনুব্রত মণ্ডলকে চার ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
দল সাফ জানিয়েছে, অনুব্রত মণ্ডলের কথাবার্তা দলের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয় এবং সেই বক্তব্য দলের অনুমোদিত নয়। দলের অবস্থান স্পষ্ট—আইন তার নিজের পথে চলবে।
👮 পুলিশের কড়া পদক্ষেপ:
আইসি লিটন হালদারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অনুব্রতের বিরুদ্ধে BNS-এর ২২৪, ১৩২, ৭৫ ও ৩৫১ ধারায় মামলা করেছে। পুলিশ সুপার স্পষ্ট বলেছেন, ‘‘আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করা হবে।’’
📞 অডিও ক্লিপে কী ছিল?
ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপে একজনকে আইসি লিটন হালদারকে ফোনে গালিগালাজ করতে ও হুমকি দিতে শোনা যায়। সেখানে আইসি-র মা এবং স্ত্রী সম্পর্কেও অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহৃত হয়। যদিও অনুব্রত দাবি করেছেন, অডিওটি তাঁর নয় এবং তিনি কেবল একবার আইসি-কে ফোন করেছিলেন, তখন আইসি তাঁকে অপমান করে ফোন কেটে দেন।
🗣️ বিজেপির প্রতিক্রিয়া:
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য বিজেপি তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘‘তিনি মুখ্যমন্ত্রীর আদরের ছেলে, তাই মুখ্যমন্ত্রীও তাঁকে ছাড় দিয়েছেন। আজ বাংলা তার ফল ভোগ করছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এই ঘটনা প্রমাণ করে, তৃণমূলের বহু নেতার দৃষ্টিভঙ্গি মহিলাদের প্রতি কতটা অপমানজনক।’’



