সন্দেশখালিতে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে এক আইপিএস অফিসারকে ‘খলিস্তানি’ বলে মন্তব্য করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এমনই অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে। এনিয়ে সরব হয়েছে শিখ সম্প্রদায়। বিজেপি পার্টি অফিসের বাইরে বিক্ষোভ দেখায় তাঁরা। এবার বিক্ষোভের রেশ আরও এক ধাপ এগোল। ‘খলিস্তানি’ মন্তব্যের নিন্দা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) চিঠি দিল শিখ সম্প্রদায়।



আরও পড়ুন: ‘সন্দেশখালি হবে নন্দীগ্রাম’, বিরোধীদের নন্দীগ্রাম তত্ত্বের পাল্টা শাসকদের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব
‘খলিস্তানি’ মন্তব্যের জেরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বিরুদ্ধে ভবানীপুর থানায় অভিযোগ করেছেন। অভিযোগকারী পদ্মপুকুর রোডের ইয়ুথ খালসা ক্লাবের সদস্য। অভিযোগ, সন্দেশখালির ঘটনায় ওইদিন কেবল একজন শিখ পুলিশকর্তাকে ধর্মীয় অবমাননা করা হয়নি, বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, কলকাতায় রাজ্য বিজেপির সদর দফতরের সামনে আন্দোলনরত শিখ সম্প্রদায়ের আন্দোলনকারীরাও মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তির উপযুক্ত কঠোর শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ চলবে বলেও স্পষ্ট করেছেন তাঁরা।



শুভেন্দু অধিকারীর ‘খলিস্তানি’ মন্তব্যের জেরে নতুন করে শোরগোল তৈরি হয়েছে। বিজেপির অন্দরে একাংশই এর বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে শাসক দল তৃণমূল পাল্টা গর্জে উঠেছে। সরব হয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছিলেন, ‘বিজেপির মতে পাগড়ি পরা সবাই খালিস্তানি। শিখ ভাই-বন্ধুদের অপমানের এই চেষ্টার আমি তীব্র নিন্দা করছি। বাংলার সম্প্রীতি রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। কেউ সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করলে, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শুভেন্দুর ‘খলিস্তানি’ মন্তব্যের জের, মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি শিখ সম্প্রদায়ের

উল্লেখ্য, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলায় আসার কথা ছিল অমিত শাহের। ২৯ ফেব্রুয়ারি ইস্কন মন্দিরে পুজো দেওয়া সহ একাধিক কর্মসূচি ছিল তাঁর। কিন্তু সদ্য পাওয়া খবর অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই তাঁর সফর বাতিল করা হয়েছে। সন্দেশখালিকাণ্ডে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। একাধিকবার বাধা পেয়ে অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে সন্দেশখালিতে গিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে গিয়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে কর্তব্যরত আইপিএস অফিসারকে ‘খলিস্তানি’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এনিয়ে সরব হয়েছে শিখ সম্প্রদায়। ক্ষমা চাওয়ার দাবি নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে পড়েছেন। ফলে গেরুয়া শিবিরে চাপ ক্রমশ বাড়ছে।







