নজরবন্দি ব্যুরোঃ ফেলুদা নিয়ে বাঙালির ইমশান চিরকালের, তাই এই নামটা শুনলেই সবাই যেন কোথায় একটা হারিয়ে যায়। তাই আগামী বড়দিনে আসতে চলেছেন নতুন ফেলুদা (Feluda New Movie)। এ যেন ছোটবেলার একটা ট্রাভেল ট্যুর কিংবা একমুঠো নস্ট্যালজিয়া। বিগত কয়েক দশক ধরে এটাই ট্রেন্ড হয়ে গেছে। মাঝে করোনা আবহে থমকে গেছিল এই ছবি। এবার ফের সন্দীপ রেয়ের উদ্যোগে বড়দিনে ফিরছে ফেলুদা আবারও বড় পর্দায়। ‘হত্যাপুরী’ কাহিনি অবলম্বনে ছবি তৈরি করছেন সন্দীপ রায়।
আরও পড়ুনঃ গরু পাচারকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়, গ্রেফতার বিএসএফ কর্তা


সবথেকে চমকপ্রদ খবর, এবার বড় পর্দায় আসতে চলেছেন নতুন ফেলুদা (Feluda New Movie)। একেবারে ঝকঝকে তকতকে ফেলুদা নবরূপে আসবেন রূপোলি পর্দায়। কিন্তু নতুন ফেলুদা হবেন কে? কোন অভিনেতা? জনপ্রিয় মুখই কি বেছেছেন সন্দীপ রায়? নাকি একদম ফ্রেশ মুখ আনতে চলেছেন তিনি ফেলুদার ভূমিকায়?
আপামর বাঙালির মনের মণিকোঠায় ফেলুদা রূপে রয়েছেন প্রবাদপ্রতিম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তার পরে নয়ের দশক থেকে ফেলুদা রূপে স্থান দখল করেন সব্যসাচী চক্রবর্তী। তারপর আবির চট্যোপাধ্যায় এবং টোটা রায়চৌধুরীকে ফেলুদা রূপে পেয়েছেন দর্শকরা। এবার নবকলেবরে কাকে ফেলুদা রূপে পেতে চলেছে বাঙালি! এই নিয়েই জল্পনা তুঙ্গে টলিপাড়া ও দর্শকমহলে।
তবু রায় পরিবারের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে উঠে আসছে নতুন ফেলুদার নাম। তবে দর্শকদের ভোটে কে বেশি এগিয়ে নতুন ফেলুদা হওয়ার লড়াইয়ে? নতুন ফেলুদা রূপে অবতীর্ণ হবার সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন কারা?


ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত: গোয়েন্দা চরিত্রে আগেও অবতীর্ণ হয়েছেন ইন্দ্রনীল। কিরীটী রূপে বাজিমাৎ করেছেন ইতিমধ্যেই। এবার সন্দীপ রায়ের নতুন ফেলুদার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। ইন্দ্রনালের বর্তমান লুকও বলছে, তিনিই হতে পারেন নতুন ফেলুদা। মুম্বই থেকে কলকাতায় বিশপ লেফ্রয় রোডের বাড়িতে উড়ে আসতে পারেন ইন্দ্রনীল সত্যজিতের কালজয়ী চরিত্র হয়ে উঠতে।

অনির্বাণ ভট্টাচার্য: হত্যাপুরীর রহস্য উদঘাটনে নতুন ফেলুদা রূপে সম্ভাব্য তালিকায় দ্বিতীয় নাম অনির্বাণ ভট্টাচার্য। ডিসেম্বরে ফেলুদা আসছে, এই খবর চাউর হওয়ার অনেক আগেই অনির্বাণ তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পেজে সন্দীপ রায়ের নতুন ছবির পোস্টার শেয়ার করে ফেলুদা হবার জল্পনা উস্কে দিয়েছেন। দর্শক চাহিদায় অনির্বাণ ভট্টাচার্যই সবথেকে এগিয়ে।
ঝড় তোলা ওয়েব সিরিজ ‘মন্দার’-এর পরিচালক হিসেবে অনির্বাণ ভট্টাচার্য তাঁর কেরিয়ারে নতুন পালক যোগ করেছেন। এবার ফেলুদা রূপেও বড় পর্দায় তিনি তাঁর জাত বুঝিয়ে দিতে পারেন। তবে একদল ফেলুদা ভক্তের মত, অনির্বাণ তাঁর সহজাত ছাঁচ ভেঙে ফেলুদা হয়ে উঠতে হয়তো পারবেন না। অনেকটাই বেমানান। কিন্তু পরিচালক ও অভিনেতার সমন্বয়ে কী সৃষ্টি হচ্ছে, সেটা প্রকাশ্যে না আসা অবধি বিচার করা যায় না। তাই ফেলুদা হওয়ার দৌড়ে অনির্বাণ ভট্টাচার্যও এগিয়ে থাকলেন বৈকী!

টোটা রায়চৌধুরী: সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ফেলুদা শীতের আমেজ জমিয়ে দিয়েছিলেন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম। সৃজিতের ফেলুদা রূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন টোটা রায়চৌধুরী। তাঁর কেরিয়ারে ফেলুদা বাঁকবদল শুধু নয়, দর্শকদের কাছে নতুন ভাবে স্বীকৃতি ও যোগ্য সম্মানও বটে। বইয়ের পাতা থেকেই যেন উঠে এসছেন ফেলুদা টোটা। ওয়েব সিরিজে ফেলুদা রূপে যে ভাবে বাজিমাত করেছেন টোটা, তাতে বড় পর্দায় তিনি ফেলুদা হলে একেবারেই নিরাশ করবেন না। সে গ্রহণযোগ্যতা সসম্মানে অর্জন করেছেন টোটা। সন্দীপ রায়ের পছন্দের তালিকাতেও ছিলেন তিনি।

হানি বাফনা: ‘ফেলুদা চরিত্রে এমন কাউকে বাছতে চলেছি, যাঁর চেহারায় একই সঙ্গে খেলোয়াড়ের মতো ক্ষিপ্রতা এবং বুদ্ধিদীপ্ত তীক্ষ্ণতার মিশেল থাকবে।’– সন্দীপ রায়ের এই কথার প্রেক্ষিতে ও নবীন যুগের ফেলুদা হবার দৌড়ে জল্পনায় এগিয়ে চলেছেন হানি বাফনা। ছোট পর্দায় ‘বকুল কথা’ ধারাবাহিক দিয়ে প্রচারের আলোয় আসেন হানি। কিন্তু তিনি যে অভিনেতা হিসেবে কতটা উন্নত তা বুঝিয়ে দেন ‘প্রথমা কাদম্বিনী’ ধারাবাহিকে দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয় করে।
বয়সের তুলনায় বেশি বয়স্ক চরিত্রের নিখুঁত চিত্রায়ন করেন তিনি। হানি বাফনার টিকোলো নাক, বুদ্ধিদীপ্ত মুখের গড়ন ও উচ্চতার সঙ্গে পারফেক্ট মিলে যায় ফেলুদার প্রতিকৃতি। সন্দীপ রায়ের চোখে কি তিনি পড়েছেন? দর্শক ভোটে টেলিপর্দা থেকে হানি বাফনা ফেলুদা হওয়ার স্বীকৃতি পেয়েছেন, তাও কম তারিফযোগ্য নয়। হতে পারে তিনিই বর্তমানের ফেলুদা।

আবির চট্টোপাধ্যায়: সন্দীপ রায়ের শেষ ফেলুদা রূপে বড় পর্দায় এসেছিলেন যিনি, তিনি আবির চট্যোপাধ্যায়। দর্শক গ্রহণযোগ্যতা আবির পেলেও সমালোচকদের বিচারে আবির কিছুটা পিছিয়েই। ব্যোমকেশ বক্সী রূপে আবির যে ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছিলেন সেই সাফল্য ফেলুদা রূপে পাননি। দর্শক ভোটেও এবার নতুন ফেলুদা রূপে আবির কিছুটা পিছিয়ে। কিন্তু সব চয়েসের মধ্যে আবিরই একমাত্র অভিনেতা, যিনি সন্দীপ রায়ের ফেলুদা হিসেবে কাজ করেছেন। তাই উড়িয়ে দেওয়া যায় না তাঁর নাম।

প্রিয়াংশু চট্টোপাধ্যায়: বলিউডে ‘তুম বিন’ ছবি দিয়ে দু’দশক আগেই শিরোনামে উঠে আসেন এই প্রবাসী বাঙালি অভিনেতা। নায়ক হওয়ার রূপ, বুদ্ধিমত্তা, অভিনয় ক্ষমতা সব থাকা সত্ত্বেও বলিউডে প্রথম সারির নায়ক তিনি পরবর্তীকালে আর হয়ে উঠতে পারেননি। কিন্তু টলিউডে একাধিক নামী পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন হিরো রূপেই।
গৌতম ঘোষের ‘শূন্য অঙ্ক’, অপর্ণা সেনের ‘ইতি মৃণালিনী’র মতো ছবি রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ফেলুদা রূপে একদম পারফেক্ট ম্যাচও করেন প্রিয়াংশু। অতনু বসুর ‘অচেনা উত্তম’, উত্তম কুমারের বায়োপিক ছবিতে সত্যজিৎ রায়ের ভূমিকায় অভিনয় করছেন প্রিয়াংশু। আর ফেলুদা তো অনেকটা স্রষ্টারই প্রতিবিম্ব। তাই ফেলুদা রূপে প্রিয়াংশু চট্টোপাধ্যায়কে ভাবা যেতেই পারে।
বড়দিনে বড় পর্দায় ফেলুদা! কে হতে চলেছেন নতুন মুখ? কে কে রয়েছেন তালিকায়?

গোপন সূত্রের আরও একটি চমকপ্রদ খবর, ফেলুদা আর তোপসের সঙ্গে ‘হত্যাপুরী’ ছবিতে পুরী ঘুরতে যাচ্ছেন লালমোহন বাবু। অর্তাৎ জটায়ু বড় পর্দায় ফিরছেন বহু বছর পর। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, লালমোহন বাবুর ভূমিকায় সন্দীপ রায়ের ছবিতে নাকি দেখা যেতে পারে টলিউডের পরিচালক অনীক দত্তকে! তাঁর ছবির জগতে আসার প্রেরণা সত্যজিৎ রায়ই। সন্দীপ রায়েরও ঘনিষ্ঠ তিনি। যে চরিত্রে যিনিই থাকুন না কেন, জল্পনা আর কিছুদিনের।







