যাদবপুরে বিক্ষোভে আহত বামপন্থী ছাত্রের বাবা তৃণমূল নেতা, ছেলের কাণ্ডে কী বললেন বাবা

বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তি: ছেলের রাজনৈতিক কার্যকলাপে বিরক্ত বাবা অমৃত বসুর প্রতিক্রিয়া

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের মধ্যে এক বামপন্থী ছাত্রের আহত হওয়ার ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। এই ছাত্র হলেন অভিনব বসু, যিনি এসএফআই-এর নেতা। ঘটনার পর তাঁর বাবা, হাওড়ার সাঁকরাইলের তৃণমূল নেতা অমৃত বসু, ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন এবং ছেলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।

শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির সামনে বিক্ষোভের এক পর্যায়ে ঘটনাটি ঘটে, যেখানে অভিনব এবং অন্য বিক্ষোভকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। ঘটনার পরে অমৃত বসু জানান, তাঁর ছেলের সঙ্গে মতাদর্শগত কোনও সম্পর্ক নেই এবং ছেলেকে তিনি বাড়িতে কোনোভাবেই সমর্থন করেন না। তিনি অভিযোগ করেছেন, ছেলের রাজনৈতিক কার্যক্রমের জন্য তাঁকে কখনোই সাহায্য করেননি এবং করোনাকালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরেও অভিনব মেসে থেকে পড়াশোনা করছে।

বিক্ষোভের সূত্রপাত: শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি ভাঙচুর ও অভিযোগ

শনিবার, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সম্মেলনে বিক্ষোভ শুরু হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিয়ে মন্ত্রীকে ঘিরে ফেলে এবং শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির চাকার হাওয়া খুলে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও অশান্তি সৃষ্টি হয়, এবং মন্ত্রী আহত হন। পরে অভিযোগ ওঠে যে, মন্ত্রীর গাড়ি এক ছাত্রকে চাপা দেয়, যার ফলে ছাত্রটি হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং তাঁর চোখের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

তৃণমূল নেতা অমৃত বসুর প্রতিক্রিয়া ও বিরোধিতা

অমৃত বসু, যিনি নিজেও একজন তৃণমূল নেতা, অভিযোগ করেছেন যে তাঁর ছেলে কোনোদিন বাড়ি আসে না এবং রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর সঙ্গে মতভেদ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলে যদি দোষী হয়, তবে তাকে শাস্তি হতে হবে।” এছাড়া, তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গত কয়েকদিনে যে অশান্তি হয়েছে, সেটার তীব্র প্রতিবাদ করেছেন এবং বিক্ষোভকারীদের শাস্তির দাবি করেছেন।

তৃণমূলের শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া

যাদবপুরে অশান্তি হওয়ার পর তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কুণাল ঘোষ, অরূপ বিশ্বাস, এবং সায়নী ঘোষ সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতা সক্রিয়ভাবে এই ঘটনা নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। কুণাল ঘোষ বলেছেন, “এটা বাঁদরামি, কিন্তু তৃণমূল সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে।” এদিকে, শনিবার রাতে যাদবপুর ক্যাম্পাসে ‘শিক্ষাবন্ধু’ অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ ও ধর্মঘট

এসএফআই এবং অন্যান্য বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিবাদ করা হয় এবং রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। তাঁরা এই ঘটনার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করেন।

পুলিশের তদন্ত এবং এফআইআর

এফআইআর দায়ের হয়েছে যাদবপুর থানায় এবং পাঁচটি মামলা রুজু হয়েছে। একাধিক অভিযোগের মধ্যে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি, ক্যাম্পাসে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগও রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, এবং তদন্ত চলছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর