ফলতা পুনর্নির্বাচনের গণনা যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে রাজনৈতিক বার্তা। তৃতীয় রাউন্ড শেষে ১৪ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে বিজেপি। দ্বিতীয় স্থানে সিপিএম, তৃতীয় স্থানে কংগ্রেস— আর তৃণমূল এখনও হাজারের গণ্ডিও ছুঁতে পারেনি। ফলতা জুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উদযাপন।
তৃতীয় রাউন্ডের গণনা শেষে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা ১৪,২৩৭ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। শুরু থেকেই গেরুয়া শিবিরের দাপট দেখা গেলেও তৃতীয় রাউন্ডের পর ব্যবধান আরও বেড়েছে। ফল ঘোষণার আগেই বিজেপি শিবিরে কার্যত উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।
দ্বিতীয় রাউন্ডের শেষে বিজেপির লিড ছিল ১২,৫৬৩ ভোট। সেই সময় বাম প্রার্থী পেয়েছিলেন ৩,৩২০ ভোট এবং দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। কংগ্রেসের ঝুলিতে ছিল ৭০৯ ভোট। অন্যদিকে তৃণমূলের ভোট ছিল মাত্র ৪৮১।
প্রথম রাউন্ড থেকেই ফলাফলের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা প্রথম ধাপে ৯,৫৩৪ ভোট পেয়ে এগিয়ে যান। সিপিএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মি দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন ৪৪৮ ভোট নিয়ে। কংগ্রেসও তৃণমূলের আগে অবস্থান করছিল।
এই ফল আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভোটের আগের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে। প্রচারের শেষ দিনে আচমকাই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। তিনি প্রকাশ্যে ফলতা উন্নয়নের জন্য ঘোষিত প্যাকেজকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। যদিও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় ব্যালটে তাঁর নামই তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে থেকে যায়।
ভোটের দিন জাহাঙ্গির খানের বাড়িতে তালা এবং স্থানীয় তৃণমূল কার্যালয় বন্ধ থাকার ছবি রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দেয়। আজ গণনাকেন্দ্রেও তৃণমূলের কোনও কাউন্টিং এজেন্টকে দেখা যায়নি বলে সূত্রের দাবি।
উল্লেখ্য, ২১ মে হওয়া পুনর্নির্বাচনকে ঘিরে নজিরবিহীন উত্তেজনা ছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই হাইপ্রোফাইল কেন্দ্রে আগের ভোটকে কেন্দ্র করে অশান্তি ও কারচুপির অভিযোগ ওঠার পর নির্বাচন কমিশন কঠোর নিরাপত্তায় ফের ভোটগ্রহণ করায়।
তবে এখনও একাধিক রাউন্ডের গণনা বাকি। কিন্তু তৃতীয় রাউন্ডের ট্রেন্ডে রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট— ফলতায় আপাতত গেরুয়া শিবিরই এগিয়ে, আর তৃণমূলের সামনে উঠে আসছে বড় প্রশ্ন।



