মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ছে নতুন নতুন অঞ্চলে। কাতারের রাজধানী দোহায় বৃহস্পতিবার নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাতারের প্রতিরক্ষা বাহিনী মিসাইল প্রতিহত করার কাজ করছে বলে জানিয়েছে সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।
সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দোহার আকাশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পরই সতর্ক হয়ে ওঠে কাতারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কাতারের সেনা জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার মোকাবিলায় তাদের এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং আকাশে আসা মিসাইল প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও দোহায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠেছিল ইরানের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার সময় নিরাপত্তার কারণে ওই এলাকা থেকে বহু বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে আরব আমিরশাহিতেও হামলার আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাজধানী আবু ধাবিতে একটি ড্রোন ধ্বংস করেছে দেশটির এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা। তবে সেই ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ছয় জন। আহতদের মধ্যে পাকিস্তান ও নেপালের নাগরিক রয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।
খালিজ টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবু ধাবির আকাশে সন্দেহজনক ড্রোন শনাক্ত করার পরই তা ধ্বংস করে দেয় সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পরে ড্রোনটির ভাঙা অংশ দুই জায়গায় পড়ে, যার ফলে কয়েক জন আহত হন।
আবু ধাবি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং সম্ভাব্য ড্রোন বা মিসাইল হামলা প্রতিহত করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় যে বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে, তার অনেকটাই আসলে ড্রোন বা মিসাইল ধ্বংস করার সময় এয়ার ডিফেন্সের ইন্টারসেপশনের আওয়াজ।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান–ইজরায়েল সংঘাতের জেরে ইতিমধ্যেই বহু দেশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নতুন করে হামলার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।



