নজরবন্দি ব্যুরো: মনখারাপ তৃণমূলের! কারণ নির্বাচনী প্রচারে নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেত্রী শুয়ে আছেন SSKM এর সাড়ে ১২নং বেডে। পায়ে প্রচন্ড ব্যথা, মাথা ব্যাথা, রক্তে সোডিয়াম কম। কোনরকমে কথা বলছেন। হাসপাতালে যাঁরা দেখতে আসছে, বাইরের “গেট ওয়েল সুন” বোর্ডে লিখে যাচ্ছেন কিছু না কিছু, আর মনখারাপের সময়ে সমস্ত কর্মী সমর্থকদের বুস্টারডোজ দিতে যন্ত্রণা ক্লিষ্ট গলা নিয়েই হাসপাতাল থেকে বার্তা পাঠালেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ ময়দানে ফিরছেন হুইলচেয়ারেই, হাসপাতাল থেকেই কর্মীদের বুষ্টারডোজ মমতার।
ঘটনা গতকালের। মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভেবেছিলেন কাল নন্দীগ্রামে থেকে আজ পুজো দিয়ে ফিরবেন শহরে। কথা ছিলো শহরে ফিরেই প্রকাশ করবেন দলের ইস্তেহার। কাল ঘটনার পর এবং আজও তিনি জানিয়েছেন নন্দীগ্রামে গাড়ির বনেটে দাঁড়িয়ে নমস্কার করছিলেন তিনি, আচমকাই ভিড় থেকে ৪-৫ জন এসে ধাক্কা মারে তাঁকে। পায়ে অসম্ভব জোরে ধাক্কা পান তিনি, হয় বমিও। সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে আসা হয় কলকাতায়। এর পর থেকেই চলছে তরজা। তৃণমূলের সকলেই চক্রান্তের পিছনে হাত দেখছে বিজেপির। আর বিজেপি সহ বিরোধী দলগুলি মনে করেছে এসব মুখ্যমন্ত্রীর সাজানো ঘটনা।
কিন্তু রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের যাই বলুক না কেন, কাল থেকে গত কয়েক ঘন্টা সারা রাজ্য জুড়ে কার্যত আন্দোলন করছেন তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। রাস্তায় বসে, টায়ার জ্বালিয়ে, ট্রেন অবরোধ করে এমনকি হাসপাতাল চত্বরে এসেও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। কোথাও কোথাও যজ্ঞ করা হচ্ছে তাঁর সুস্থতা কামনা করে। তৃণমূলের সমর্থক ছাড়াও অভিনেতা পরমব্রত সহ অনেকেই সুস্থতা কামনা করছেন। সুস্থতা কামনা করে টুইট করেছেন রাজ চক্রবর্তী, সায়ন্তিকা, কৌশানি সহ আরো অনেকে। সকলের একটাই বক্তব্য, “লড়াই অনেক বাকি, তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন মুখ্যমন্ত্রী।” আজই হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন সাংসদ মিমি চক্রবর্তী।
মনখারাপ তৃণমূলের! হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় তাঁর চোখে জল দেখা যায়, তিনি বেরিয়ে জানিয়েছেন, “আজ শিবরাত্রি, আপনারা প্রার্থনা করুন দিদি শ্রীঘই সুস্থ হয়ে উঠুন। কারো ভালো লাগছে না। আমাদের একটাই প্রায়োরিটি, দিদির দ্রুত সুস্থতা।” একই কথা বলছেন সকলে। মন ভালো নেই কারো। মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে যেসকল নেতা মন্ত্রীরা আসছেন, তাঁরা “গেট ওয়েল সুন” বোর্ডে লিখে যাচ্ছেন নিজেদের মনের কথা। দিদির সুস্থ হয়ে ওঠার প্রার্থনা। আজ সারাদিন আরো যাঁরা আসবেন মুখ্যমন্ত্রীর সুস্থতা কামনা করে লিখে যাবেন নিজেদের কথা।



