চাকরি পরিবর্তনের সময় মাঝখানের কয়েকটা দিন—বিশেষ করে শনিবার-রবিবার বা সরকারি ছুটি—নিয়ে বহু চাকরিজীবীরই একটা অজানা আতঙ্ক কাজ করে। এই সময়টুকু কি চাকরির ছেদ হিসেবে ধরা হবে? এতে কি ভবিষ্যতে প্রভিডেন্ট ফান্ড বা বিমার সুবিধা নিয়ে সমস্যা হবে? এতদিন এই ভয় একেবারেই অমূলক ছিল না।
কিন্তু এবার সেই দুশ্চিন্তায় পুরোপুরি ইতি টানল এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)। ১৯৫২ সালের আইনে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা ও সংশোধনের মাধ্যমে ইপিএফও স্পষ্ট করে দিল—চাকরি বদলের মাঝখানে ছুটি পড়লেও তা আর চাকরির ধারাবাহিকতা ভাঙবে না। ফলে লক্ষ লক্ষ চাকরিজীবীর পরিবার বড় আর্থিক সুরক্ষার আওতায় এল।


নতুন নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে?
ইপিএফও-র ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের নির্দেশিকা অনুযায়ী,
একটি চাকরি ছেড়ে অন্য চাকরিতে যোগ দেওয়ার মাঝখানে যদি—
-
সাপ্তাহিক ছুটি (শনিবার–রবিবার)
-
জাতীয় ছুটি
-
গেজেটেড হলিডে
পড়ে, তাহলে সেই সময়কে আর ‘ব্রেক ইন সার্ভিস’ হিসেবে ধরা হবে না।
অর্থাৎ, ওই সময়টুকু কর্মীর চাকরির ধারাবাহিকতার মধ্যেই গণ্য হবে।
আগে কী সমস্যা হতো?
আগে যদি কোনও কর্মী শুক্রবার চাকরি ছাড়তেন এবং সোমবার নতুন কাজে যোগ দিতেন, তাহলে মাঝের শনি ও রবিবারকে চাকরির ছেদ হিসেবে ধরা হতো।
এই সময়ের মধ্যে কোনও অঘটন ঘটলে, কর্মীর পরিবার EDLI বিমার টাকা দাবি করতে গিয়ে আইনি জটিলতায় পড়ত। অনেক ক্ষেত্রেই পুরো সুবিধা পাওয়া যেত না।
এখন কী সুবিধা মিলবে?
নতুন নিয়মে ওই ছুটির দিনগুলোকে চাকরির অংশ হিসেবেই ধরা হবে।
ফলে—
-
চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে
-
অঘটন ঘটলে পরিবারের EDLI বিমা দাবিতে বাধা থাকবে না
-
কাগজপত্র ও আইনি জটিলতা অনেকটাই কমবে
৬০ দিন পর্যন্ত গ্যাপ থাকলেও মিলবে বিমার সুরক্ষা
শুধু ছুটির দিন নয়, ইপিএফও আরও এক ধাপ এগিয়ে বড় ছাড় দিয়েছে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী,
একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করা কর্মীদের ক্ষেত্রে দুটি চাকরির মাঝে সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত ব্যবধান থাকলেও তা ‘কন্টিনিউয়াস সার্ভিস’ হিসেবেই ধরা হবে।
অর্থাৎ—
-
আপনি চাকরি ছাড়ার পর ২ মাস পর্যন্ত কাজ না করলেও
-
এরপর নতুন চাকরিতে যোগ দিলে
-
এই সময়ের মধ্যে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে
আপনার পরিবার পুরো বিমা সুবিধা পাবে।
EDLI স্কিমে কত টাকা পাওয়া যায়?
‘Employees’ Deposit Linked Insurance (EDLI)’ স্কিমের আওতায় চাকরিজীবীর অকাল মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবার সর্বোচ্চ ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারে।
এই স্কিমে—
-
আলাদা করে কোনও প্রিমিয়াম দিতে হয় না
-
EPF সদস্য হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কভারেজ থাকে
-
চাকরির ধারাবাহিকতা থাকাই মূল শর্ত
নতুন নিয়মে সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আরও সহজ হল।
চাকরি বদলের সময় ছুটি বা সামান্য বিরতি নিয়ে আর দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। ইপিএফও-র নতুন নিয়মে চাকরিজীবী ও তাঁদের পরিবার পেল বড় সুরক্ষা। সর্বোচ্চ ৭ লক্ষ টাকার বিমা সুবিধা নিশ্চিত করতে এই পরিবর্তন নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী স্বস্তির খবর।









