অবশেষে স্থগিত EMI-এর সুদে স্বস্তি, কেন্দ্রকে দ্রুত সিদ্ধান্ত কার্যকর করার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ অবশেষে স্থগিত EMI-এর সুদে স্বস্তি, কেন্দ্রকে দ্রুত সিদ্ধান্ত কার্যকর করার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে কেন্দ্রিয় সরকার জানিয়েছিল, ঋণ গ্রাহকদের মোরাটোরিয়ামের মেয়াদের জন্য বকেয়া সুদের উপর আর সুদ দিতে হবে না। কিন্তু কেন্দ্রের হলফনামায় খুশি হয়নি সুপ্রিম কোর্ট। সুদের উপর সুদ মকুব নিয়ে কেন্দ্রিয় সরকারের প্রস্তাবে অনেক ফাঁকফোকর আছে বলে মত দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত।

আরও পড়ুনঃ অনলাইন মিউচুয়াল ট্রান্সফারে জটিলতা দূরীকরণ ও সাধারণ বদলির দাবিতে আন্দোলন UTWA-র

মহামান্য বিচারপতি অশোক ভূষন, আর সুভাষ রেড্ডি এবং এমআর শাহ এই তিনজনের বেঞ্চ জানায় কেন্দ্রের হলফনামা পিটিশনারদের সমস্ত দাবিপূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই ১ সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্র ও রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়াকে নতুন করে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দেয় কেন্দ্র। সেখানে কেন্দ্রিয় সরকার জানায়, “আলাদা আলাদা সেক্টরকে আর নতুন করে আর্থিক সাহায্য করা সম্ভব নয়। আর কেন্দ্রের আর্থিক পলিসিতে আদালতের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।”

অবশেষে স্থগিত EMI-এর সুদে স্বস্তি, কেন্দ্রকে দ্রুত সিদ্ধান্ত কার্যকর করার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। সুদের উপর সুদ মামলায় আজ শীর্ষ আদালত জানায়, সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রের সুদের ওপর সুদ মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রশংশনীয়। কিন্তু তা এখনও কার্যকর করা হয়নি কেন? উত্তরে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, প্রথমে ব্যাংকগুলি সুদের উপর সুদে ছাড় দেবে। তারপর সেই টাকা মেটাবে কেন্দ্র। যা অত্যন্ত জটিল হিসেব। তাই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করতে গেলে সময় লাগবে। এই বক্তব্য রেখে সুপ্রিম কোর্টের কাছে ১৫ ই নভেম্বর পর্যন্ত সময় চায় কেন্দ্রীয় সরকার।

এদিন সুপ্রিম কোর্টে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, হলফনামায় যা বলা হয়েছে, সরকার তা পালন করবেই। সব শুনে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয় এই মামলায় ফের শুনানি হবে আগামি ২রা নভেম্বর। উল্লেখ্য, হলফনামায় কেন্দ্র জানিয়েছিল, যারা বিভিন্ন কারনে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়েছেন এবং যে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ২ কোটি টাকা তাঁদের দিতে হবে না সুদের ওপর সুদ। ব্যাঙ্ক এবং গ্রাহক উভয়পক্ষ কে বাঁচাতে সরকার ওই বাড়তি সুদ বাবদ খরচ বহন করবে। কিন্তু অনেকেই জানতে চাইছেন এই সুদের ওপর সুদ বিষয় টি কি? বা তাতে কতটা সুবিধা পাবেন গ্রাহক?

ধরা যাক কোন গ্রাহক বাড়ি কেনার খাতে ঋন নিয়েছেন ৪০ লক্ষ টাকা। আর এই ৪০ লক্ষ টাকা ঋণের জন্যে তাকে মাসে ৩০ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হচ্ছে এখন। এই ৩০ হাজার টাকার মধ্যে সুদ বাবদ দিতে হচ্ছে ১৭ হাজার আর মূল ঋণ অর্থাৎ প্রিন্সিপ্যাল অ্যামাউন্ট শোধ হচ্ছে ১৩ হাজার টাকা। এদিকে গ্রাহক করোনা পরিস্থিতিতে ইএমআই দিতে পারেননি ৬ মাস(মার্চ ২০২০-আগস্ট ২০২০) অর্থাৎ তার প্রদেয় সুদের অর্থ জমে গেল ১৭ হাজার X ৬ = ১ লক্ষ ২ হাজার টাকা। ব্যাঙ্ক চক্রবৃদ্ধি হারে এই সুদের অপর সুদ চাপাচ্ছিল। আজ সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র হলফনামা দিয়ে জানিয়ে দিল সুদের ওপর চাপানো সুদের অংশ টি পরিষোধ করবে কেন্দ্র।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত