রাজ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই ভোটার তালিকা সংক্রান্ত নানা গাফিলতির অভিযোগ সামনে এসেছে। এতদিন এই ধরনের ঘটনায় মূলত বুথ লেভেল অফিসার (BLO), AERO বা ERO-দের শো-কজ় করেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এবার একেবারেই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ।
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর এই প্রথম কোনও ভোটকর্মীকে নয়, সরাসরি একজন ভোটারকে শো-কজ় নোটিস পাঠাল নির্বাচন কমিশন। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।


একই ভোটারের নাম দুই বিধানসভায়
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম খসড়া ভোটার তালিকায় দু’টি আলাদা জায়গায় উঠে এসেছে। একদিকে উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্র, অন্যদিকে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্র।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ওই ভোটারের জন্য দু’জায়গাতেই এনিউমারেশন ফর্ম জমা পড়েছে। এর ফলে ভোটার তালিকায় দ্বৈত নথিভুক্তির বিষয়টি সামনে আসে।
এনিউমারেশন ফর্মে সই নিয়েই প্রশ্ন
কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এনিউমারেশন ফর্ম পূরণের ক্ষেত্রেও মিলেছে অসঙ্গতি।


-
একটি জায়গায় ওই ভোটার নিজে ফর্মে সই করেছেন
-
অন্য জায়গায় তাঁর হয়ে অন্য কেউ এনিউমারেশন ফর্মে সই করেছেন
এই তথ্য সামনে আসার পরই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন।
ঠিকানা পরিবর্তন নাকি বড় গাফিলতি?
নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ধারণা, ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে কমিশন এটাও স্পষ্ট করেছে, শুধুমাত্র ভোটারের বক্তব্যের উপর নির্ভর না করে পুরো প্রক্রিয়াটির গভীরে যেতে চায় তারা।
এই কারণেই সরাসরি ভোটারকে শো-কজ় নোটিস পাঠানো হয়েছে—যাতে বোঝা যায়,
-
ভোটারের ভূমিকা কী ছিল
-
BLO, AERO বা ERO-র পক্ষ থেকে কোনও গাফিলতি বা অনিয়ম হয়েছে কি না
শো-কজ়ের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে চাইছে কমিশন
রাজ্যের CEO দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভোটারকে শো-কজ় করার মূল উদ্দেশ্য শাস্তি নয়, বরং SIR প্রক্রিয়ায় কোথায় ত্রুটি হয়েছে তা চিহ্নিত করা। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ভোটকর্মীদের বিরুদ্ধেও পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে এবার শুধু ভোটকর্মী নয়, প্রয়োজনে ভোটারের ভূমিকাও খতিয়ে দেখতে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন।







