নির্বাচনের আবহে সুপ্রিম কোর্টকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের মঞ্চ বানানোর প্রবণতা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানালেন দেশের প্রধান বিচারপতি। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা-কে ঘিরে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়ো সংক্রান্ত মামলা গ্রহণ করলেও প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করে দিলেন—ভোট যত এগোয়, ততই নির্বাচনী লড়াইয়ের একাংশ সুপ্রিম কোর্টে এসে পড়ে, আর এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে ওই মামলার প্রাথমিক শুনানিতে এই মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। চলতি বছরে চারটি রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে—অসমও তার মধ্যে অন্যতম। ঠিক সেই আবহেই অসম বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল থেকে পোস্ট হওয়া মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার একটি ভিডিয়ো ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধে, যা শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতে।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিয়োকে কেন্দ্র করে। সমালোচনার ঝড় উঠতেই বিজেপি দ্রুত ভিডিয়োটি সরিয়ে নেয়। কিন্তু তাতে বিতর্ক থামেনি। বিষয়টি নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় সুপ্রিম কোর্টে। পাশাপাশি, কয়েকজন বামপন্থী নেতাও আদালতের দ্বারস্থ হন।
মঙ্গলবার মামলাকারী Communist Party of India (CPI) ও Communist Party of India (Marxist) (CPIM)-এর পক্ষ থেকে আইনজীবী নিজাম পাশা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর দাবি, ভাইরাল ভিডিয়ো-কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি, অথচ বিষয়টি গুরুতর। দ্রুত শুনানির আর্জিও জানান তিনি।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মামলাটি শুনতে রাজি হলেও স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করে—“সমস্যা হল, নির্বাচন যত এগিয়ে আসে, সেই ভোটের কিছুটা অংশ সুপ্রিম কোর্টেও লড়া হয়ে যায়। এটাই সমস্যা।” আদালত জানায়, বিষয়টি বিবেচনা করা হবে এবং শুনানির তারিখ পরে জানানো হবে।


এ বছর পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম এবং পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল ও তামিলনাড়ুতে বিজেপিবিরোধী সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। অসম ও পুদুচেরিতে বিজেপি বা তাদের জোটসঙ্গীরা শাসন করছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনের আগে আদালতকে ‘লড়াইয়ের বিকল্প মঞ্চ’ হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে।
এই প্রবণতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অসন্তোষ অবশ্য নতুন নয়। গত বছরও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে ঘিরে আদালত অবমাননার মামলায় কড়া বার্তা দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি B. R. Gavai। তখন তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন—“রাজনৈতিক যুদ্ধ অন্য জায়গায় লড়ুন। কোর্টকে রাজনীতির ময়দান বানাবেন না।”

হিমন্ত-কাণ্ডে মামলা গ্রহণের পাশাপাশি প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল—নির্বাচনী রাজনীতি আর বিচারব্যবস্থার সীমারেখা ঠিক কোথায় টানা উচিত?







