মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশ্যে এসেছে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত নতুন নথি—আর তাতেই উঠে এসেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম। ‘এপস্টিন ফাইলস’ ঘিরে এই তথ্য সামনে আসতেই দেশের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নিয়ে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার পুরো বিষয়টিকে ‘অপরাধীর আজগুবি বকবকানি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
শুক্রবার US Department of Justice আরও কিছু নথি প্রকাশ করে, যার মধ্যে একটি ইমেল জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে চলে এসেছে। সেই নথির সূত্র ধরে প্রধান বিরোধী দল Indian National Congress কড়া আক্রমণ শানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র বিরুদ্ধে।


বিতর্কের সূত্র কোথায়?
প্রকাশিত নথিটি আসলে ২০১৭ সালের ৯ জুলাইয়ের একটি ইমেল। সেটি পাঠিয়েছিলেন কুখ্যাত আমেরিকান ধনকুবের ও যৌন অপরাধী Jeffrey Epstein। ইমেলটি পাঠানো হয়েছিল ‘জেবর ওয়াই’ নামে এক ব্যক্তিকে, যিনি এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের সদস্য বলেই মনে করা হচ্ছে।
ইমেলে লেখা ছিল—
“ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদী পরামর্শ মেনে চলেছেন এবং আমেরিকান প্রেসিডেন্টের সুবিধার্থে ইজ়রায়েলে নাচ ও গান করেছেন। কয়েক সপ্তাহ আগে তাঁদের দেখা হয়েছিল। এটি কাজ করেছে!”
এই বক্তব্যের সত্যতা বা প্রেক্ষিত নিয়ে নথিতে কোনও ব্যাখ্যা নেই। তবে ইমেলের ভাষাই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছে।


সময়কাল নিয়েই প্রশ্ন তুলছে কংগ্রেস
কংগ্রেসের বক্তব্য, ইমেলে উল্লেখ করা সময়কাল ও সফরসূচি মিলিয়ে দেখা দরকার। কারণ—
-
২০১৭ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদী যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
-
এর ঠিক পরের সপ্তাহে, ৪ থেকে ৬ জুলাই, মোদী যান Israel সফরে—যা ছিল কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইজ়রায়েল সফর।
কংগ্রেসের দাবি, এপস্টিনের ইমেলে উল্লিখিত ‘পরামর্শ’ আদৌ কী ছিল এবং সেই পরামর্শ অনুযায়ীই কি সফরের কর্মসূচি নির্ধারিত হয়েছিল—তা স্পষ্ট করা দরকার। সোশ্যাল মিডিয়ায় দলটি প্রশ্ন তুলেছে, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সময় এপস্টিনের সঙ্গে কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগ হয়েছিল কি না।
কেন্দ্রের কড়া প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, এক জন দণ্ডিত অপরাধীর ব্যক্তিগত ইমেল বা মন্তব্যের কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। কেন্দ্রের এক শীর্ষ সূত্রের কথায়, এটি ‘এক অপরাধীর অসংলগ্ন মন্তব্য মাত্র’, যার সঙ্গে বাস্তব বা কূটনৈতিক সত্যের কোনও সম্পর্ক নেই।
তবু বিরোধীদের প্রশ্ন থামছে না। ‘এপস্টিন ফাইলস’-এ নাম জড়ানো মাত্রই বিষয়টি রাজনীতির ময়দানে বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে। সামনে আরও নথি প্রকাশ পেলে বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর।








