কলকাতার রেড রোডে ইদের নমাজ বহু বছর ধরেই শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু ২০২৬ সালে সেই দীর্ঘদিনের ছবিতে বড় বদলের ইঙ্গিত মিলছে। সেনা বাহিনীর আপত্তি এবং প্রশাসনিক কড়াকড়ির জেরে এবার রেড রোডে ইদের নমাজের অনুমতি মিলবে কি না, তা নিয়েই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।
বিগত তৃণমূল আমলে ইদের সকালে রেড রোডের নমাজের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি ছিল কার্যত নিয়মে পরিণত। মাথায় ওড়না দিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সেই ছবি প্রতি বছরই সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে জায়গা করে নিত। পরবর্তী সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই মঞ্চে নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠেন।


কিন্তু এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর আর মুখ্যমন্ত্রী পদে নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই আবহেই রেড রোডে ইদের নমাজ আয়োজন নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

সেনা সূত্রে খবর, রেড রোডে বড় জমায়েত নিয়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ নতুন নয়। গত বছরই ইদের নমাজের প্রধান আয়োজক খিলাফত কমিটিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, ভবিষ্যতে সেখানে অনুমতি দেওয়া কঠিন হবে। যদিও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ অনুরোধে শেষবারের মতো ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি সেনার একাংশের।
এবার সেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় সেনা কর্তৃপক্ষ আগের অবস্থানেই অনড় থাকতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে জল্পনা। কারণ রেড রোড ও তার আশপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফোর্ট উইলিয়ামের অধীনেই থাকে।


এদিকে সামনেই বখরি ইদ। নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পশু বলি এবং ধর্মীয় জমায়েত ঘিরে প্রশাসনিক কড়াকড়ি আরও বাড়ানো হয়েছে। ফলে রেড রোডে ইদের নমাজ নিয়ে সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, যদি রেড রোডে অনুমতি না মেলে, তাহলে বিকল্প কোথায়? নবান্ন সূত্রে খবর, এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই সেনা ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে একাধিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রশাসনের একাংশের মতে, বিকল্প হিসেবে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে বিবেচনা করা হচ্ছে। আয়োজক সংস্থা খিলাফত কমিটিকেও সম্ভাব্য এই পরিবর্তনের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
নবান্নের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, ব্রিগেডে এর আগেও একাধিক বড় ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান সফলভাবে হয়েছে। তাই আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে ব্রিগেড প্রশাসনের কাছে বাস্তবসম্মত বিকল্প হতে পারে।
তবে রেড রোড থেকে ইদের নমাজ সরে গেলে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক অভিঘাত কতটা গভীর হবে, তা নিয়েই এখন আলোচনা তুঙ্গে। বহু বছরের এক প্রতীকী আয়োজনের ভবিষ্যৎ ঘিরে নজর এখন প্রশাসন, সেনা এবং রাজনৈতিক মহল— সবারই।



