নজরবন্দি ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি কান্ডে নাম উঠে আসা তৃণমূল যুবনেত্রী তথা অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকে কি গ্রেফতার করবে ইডি, এটাই এখন বঙ্গ রাজনীতির প্রেক্ষিতে লাখ টাকার প্রশ্ন। কি হবে আর কি হবে না, তা তো তদন্তের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাই জানে। আদৌ এই দুর্নীতি কান্ডে সায়নী জড়িত কিনা তাও কিন্তু এখনও প্রমাণ হয়নি। এবার জানা গিয়েছে, সায়নীর দিস্তা দিস্তা নথি চেক করে ‘খুশি’ নয় ইডি!
বুধবার ইডির দ্বিতীয় দফার তলব এড়িয়ে পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন তৃণমূল যুবনেত্রী। তার আগের রাতেই তিনি অবশ্য ইডিকে মেইল করে সশরীরে হাজিরা না দিতে পারার কারণ উল্লেখ করেছিলেন। পাশাপাশি, তাঁর আইনজীবীর হাত দিয়ে তিনি ইডি দপ্তরে পাঠিয়ে দেন ৫৩০ পাতার আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নথি। আগামী কিছু দিনের মধ্যেই তাঁর তলব হতে পারে সিজিও কমপ্লেক্সে।
আরও পড়ুন: ভোটের দিন কোনও রকম হিংসা বরদাস্ত করা হবে না, নতুন কমিটি গড়ে কড়া পদক্ষেপ রাজ্যপালের!
একসময় একটি সিনেমাকে বন্ধ করার প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েও তৃণমূল কংগ্রেসে নাম লেখান সায়নী ঘোষ। আর সায়নীর সোজাসাপ্টা কথাবার্তা, রাজনীতিতে আগ্রহের কারণে তৃণমূল কংগ্রেসে তাঁর উত্থান হতে সময় লাগেনি। আবার, অনেকে কটাক্ষ করে থাকেন এই বলে যে, প্রচারে বেরিয়ে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘নকল’ করে ভাষণ দিয়ে বা শাড়ি পড়ে তাড়াতাড়ি মানুষের মন জয় করেছেন অভিনেত্রী।
গত বছর হঠাৎ করেই জানা যায়, রাজ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে বিপুল দুর্নীতি হয়েছে। রাতবিরেতে অভিযান চালিয়ে কলকাতার আনাচে কানাচে থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার করে ইডি। যে কারণে জেলে যেতে হয়, রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে। গ্রেফতার হয়েছেন পর্ষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য, পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়, এসএসসির প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য সহ আরও অনেকে। গোটা ঘটনায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস মাথায় হাত দিলেও সায়নী তখন বেশ নিশ্চিন্তেই রাজনীতিটা করছিলেন। কিন্তু একটা দিন আসল, যেদিন ইডির হাতে এই একই কান্ডে গ্রেফতার হলেন হুগলির তৃণমূল যুবনেতা কুন্তল ঘোষ। আর সায়নী না চাইতেও তাঁকে ‘ছুঁয়ে’ ফেলল ইডি।

ইডির সন্দেহ, ধৃত কুন্তলের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন হয়েছিল সায়নীর এবং সায়নী বিধানসভা নির্বাচনের সময় যে গাড়িটি ব্যবহার করতেন সেটা কুন্তলেরই দেওয়া। সেই কারনেই গত ৩০ জুন তলব করে সায়নীকে প্রায় ১১ ঘন্টার ম্যারাথন জেরা করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। রাতে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে যুবনেত্রী জানিয়েছিলেন, তদন্তের স্বার্থে তিনি ১০০ বার ইডির সামনে হাজির হতে রাজি আছেন। তাহলে, ইডির দ্বিতীয় দফার তলব অর্থাৎ ৫ই জুন তিনি হাজিরা এড়িয়ে গেলেন। কোনও বিশেষ কারণে?

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পঞ্চায়েত ভোট একেবারে শিয়রে, এমনিতেই এত এত গ্রেফতারির পর মানুষের কাছে মুখ পুড়ে গিয়েছে শাসক দলের। তাই ভোটের আগে আবার এক নেত্রী গ্রেফতার হলে সেটা মোটেই ভোটের ফলাফলের জন্য সুখকর হবে না। এখন, ইডির অফিসে সায়নী হাজিরা দিতে গিয়ে যদি আর নাই বেরোন, সেখানেই যদি গ্রেফতার করা হয় তাঁকে? তাহলে তা নিয়ে অবশ্যই খবর হবে, শিরোনাম হবে।

আর সেটাই তৃণমূল কংগ্রেস এই মুহূর্তে চাইছে না। সায়নীকে প্রথম বার তলবের পরেও তিনি দিন দুয়েকের জন্য গা ঢাকা দিয়েছিলেন। ভাবা হয়েছিল, ইডির জেরায় তৃণমূলের ‘অভিজ্ঞ’ নেতারা সায়নীকে পাখি পড়ার পাঠ দিচ্ছিলেন। সেই মোতাবেকই সায়নী হাজিরা দেন। কিন্তু এখন, সূত্রের খবর, সায়নী ইডির কাছে তাঁর আয়ব্যয় সংক্রান্ত যে ৫৩০ পাতার নথি দিয়েছেন, তাতে খুশি নয় আধিকারিকেরা।

অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকা সায়নী জানিয়েছেন তিনি ভার্চুয়াল জেরা চাইছেন, সেটাতেও কতটা সম্মতি আছে ইডির তা দেখার বিষয়। এদিকে, ৮ তারিখ পঞ্চায়েত ভোট হয়ে ১১ তারিখ ফলাফল, তাহলে কী তারপরেই সায়নীকে ফের তলব করা হবে? আর ভোট মিটে গেলে যদি সায়নী দুর্নীতিগ্রস্ত প্রমাণিত হন, তাহলে কী দলও হাত সরিয়ে নেবে মাথায় ওপর থেকে? সব কিছু নিয়ে জল্পনা জারি থাকছে রাজনৈতিক মহলে।
সায়নীর দিস্তা দিস্তা নথি চেক করে ‘খুশি’ নয় ইডি! ভোটের আগে ‘গ্রেফতার’ চায় না তৃণমূল?








