মেয়েকে লেখা চিঠিতে কি কৌশলে রেশন দুর্নীতির টাকার অঙ্কের ভাগের কথাই উল্লেখ করেছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক? কেন্দ্রীয় এজেন্সি সূত্রে খবর, প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রীর লেখা চিঠিতে ‘মুকুল’ আসলে দেগঙ্গার চালকল মালিক আলিফেরই ডাক নাম। হাসপাতাল থেকে মেয়ে প্রিয়দর্শিনী মল্লিককে চিঠি লিখেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সেই চিঠি থেকেই মুকুলের নাম জানতে পারে ইডি। রেশন মামলায় ধৃত আলিফ নুর ওরফে মুকুল রহমানের কাছে জ্যোতিপ্রয় মল্লিকের ২০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে বলে অনুমান ইডির।
ধৃত তৃণমূল নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর দাদা আলিফ নুর ওরফে মুকুলকে জেরা করে লেনদেন সংক্রান্ত হিসেবের নাগাল পেতে চাইছে ED। ইডি সূত্রে খবর, তাঁদের জেরা করে আরও একটি নাম সামনে এসেছে, ‘মনাদা’! ধৃত আলিফ নুরের সঙ্গে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের টাকার লেনদেনের সম্পর্কের খোঁজ করতে গিয়েই ‘মনাদা’র নামটি উঠে আসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের রেকর্ডে।


আলিফের মতো প্রায় কোটি টাকার লেনদেন না হলেও ‘মনাদা’ জ্যোতিপ্রিয়কে সাড়ে ১১ লাখ টাকা দিয়েছেন, এমন প্রমাণ মিলেছে। এবার এই ‘মনাদা’র আসল পরিচয় জানতে চাইছেন ইডির গোয়েন্দারা। কীভাবে ‘মনাদা’র সঙ্গে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পরিচয় হল, আর কেনই বা তিনি ২০২১ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে জ্যোতিপ্রিয়কে ওই টাকা দিলেন, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য। ইডির গোয়েন্দারা ওই ‘মনাদা’কে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন।
উল্লেখ্য, প্রাক্রন খাদ্যমন্ত্রীর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট শান্তনু ভট্টাচার্যকে ‘ই এইচ’দিয়ে শুরু পাঁচটি সংস্থা ‘গ্রিনিশ’,‘সেন্টার অ্যান্ড মার্ট’,‘ইঞ্জিনিয়ারিং’,‘পিকাসো’ ও ‘গ্রিনরাশ’ এর সন্ধান পায় ইডি। ইডির দাবি, ওই সংস্থাগুলির কর্ণধার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও তাঁর স্ত্রী। ব্যালান্স শিটের তথ্য অনুযায়ী, ওই পাঁচটি সংস্থার অ্যাকাউন্টে নগদে জমা পড়েছে ৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে আনিসুরের ভাই আলিফ নুরের মাধ্যমে ‘ই এইচ’ সংস্থাগুলিতে জমা পড়েছে ৯৪ লাখ টাকা। এ ছাড়াও ‘মনাদা’র হাত থেকে সাড়ে ১১ লাখ টাকা জমা পড়েছে একই আর্থিক বছরে!







