ভোটের আগেই প্রশাসনিক কড়াকড়ি আরও জোরদার করল নির্বাচন কমিশন। একের পর এক বদলি, অপসারণের মাঝেই এবার নতুন সিদ্ধান্ত—বাংলার ১৫ জন শীর্ষ আইপিএস আধিকারিককে রাজ্যের বাইরে পাঠানো হচ্ছে ভোট পর্যবেক্ষক হিসেবে। এই পদক্ষেপে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা, কারণ তালিকায় রয়েছেন রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ কর্তা।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, এই ১৫ জন আইপিএস অফিসারকে তামিলনাড়ু এবং কেরলে ভোট অবজার্ভার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন বিভিন্ন কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার এবং অভিজ্ঞ আধিকারিকরা। উল্লেখযোগ্য নামগুলির মধ্যে রয়েছেন মুরলিধর শর্মা, আলোক রাজোরিয়া, আকাশ মাঘারিয়া এবং ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়—যাঁদের প্রশাসনিক দক্ষতা দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত।


সম্পূর্ণ তালিকায় থাকা আধিকারিকরা হলেন—রশিদ মুনির খান, সন্দীপ কারা, প্রিয়ব্রত রায়, প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠি, মুকেশ, মুরলিধর শর্মা, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, ধৃতিমান সরকার, সি সুধাকর, ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, আমনদীপ, আকাশ মাঘারিয়া, আলোক রাজোরিয়া এবং সইদ ওয়াকার রাজা।
সূত্রের খবর, ভোট ঘোষণার পর এই আধিকারিকদের অনেককেই সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। পরে রাজ্য সরকার তাঁদের অন্য পদে পুনর্বহাল করলেও, কমিশন সেই সিদ্ধান্ত কার্যত খারিজ করে দিয়ে এবার তাঁদের রাজ্যের বাইরে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ভোট ঘোষণার দিন থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় রদবদল শুরু হয়। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ একাধিক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি কলকাতা পুলিশ কমিশনার, ডিজি এবং বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারদের রাতারাতি বদলির নির্দেশ দেয় কমিশন। রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, প্রেসিডেন্সি এবং জলপাইগুড়ি রেঞ্জের ডিআইজি-দেরও সরানো হয়েছে।


এছাড়াও কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দার্জিলিং এবং আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসকদের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ব্যাপক প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি বলেই অভিযোগ উঠেছে।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার এই হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নির্বাচন কমিশনের এই কড়া অবস্থান ভোট প্রক্রিয়াকে কতটা প্রভাবিত করে, এখন সেটাই দেখার।









