বিধানসভা ভোটের আগে কলকাতার গিরিশ পার্কে রাজনৈতিক সংঘর্ষ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ি লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ এবং বিজেপি কর্মীদের উপর আক্রমণের পাল্টা দাবি—এই দ্বিমুখী অভিযোগের মাঝেই সরব হয়েছে নির্বাচন কমিশন। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা জানতে কলকাতা পুলিশের কমিশনার সুপ্রতিম সরকারের কাছে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন। বিশেষ করে প্রশ্ন উঠেছে, এলাকায় অশান্তি চলার সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী কেন দেখা গেল না।
শনিবার দুপুরে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রীর সভাকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা বাসে করে আসছিলেন। সেই সময় গিরিশ পার্ক এলাকায় পরিস্থিতি আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীদের একটি দল বাস থেকে নেমে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ির সামনে থাকা পোস্টার ও ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলে এবং পাথর ছোড়ে।


শশী পাঁজা জানিয়েছেন, তাঁর বাড়ির আশপাশে ‘বয়কট বিজেপি’ লেখা পোস্টার লাগানো ছিল। বিজেপি কর্মীরা সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় বাস থামিয়ে নেমে এসে সেই পোস্টার ছিঁড়ে দেয়। পরে তারা বাসে উঠে চলে গেলেও, আবার তৃণমূল কর্মীরা পোস্টার লাগাতে গেলে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, তখন বিজেপি কর্মীরা বাস থেকে নেমে এসে তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা চালায়।
অন্যদিকে বিজেপির দাবি, প্রথমে তাদের উপরই হামলা করা হয়। অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরা ব্রিগেডগামী বাস লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে এবং কয়েকটি বাসে ভাঙচুর চালায়। সেই ঘটনায় বেশ কয়েক জন বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
দুই পক্ষের সংঘর্ষের মাঝেই আহত হন বৌবাজার থানার ওসিও। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। তবে নির্বাচন কমিশনের নজরে এসেছে যে প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে এলাকায় উত্তেজনা চললেও সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যায়নি।


কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সভাকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল। সেই পরিস্থিতিতে গিরিশ পার্কের মতো সংবেদনশীল এলাকায় দীর্ঘ সময় অশান্তি চলার পরেও বাহিনী কেন পৌঁছল না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পরেই কমিশন কলকাতা পুলিশের কমিশনারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। এই রিপোর্টে অশান্তির কারণ, পুলিশের ভূমিকা, এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। ভোটের আগে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কমিশনের এই সক্রিয়তা রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।







