বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে এবার বাড়তি কড়াকড়ি নির্বাচন কমিশনের। ভোট ঘোষণার আগেই নজিরবিহীনভাবে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন শুরু হতে চলেছে। আর সেই বাহিনী এসে বসে থাকবে না—স্পষ্ট নির্দেশ দিল কমিশন। শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে দ্রুত রুট মার্চ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনকে।
সোমবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়ালের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, বৈঠকেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে—বাহিনী পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে নামাতে হবে এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে দৃশ্যমান উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
কারা ছিলেন বৈঠকে?
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—
-
রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযুষ পাণ্ডে
-
ডিজি (আইনশৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েল
-
কলকাতা পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার
-
সিআরপিএফের আইজি সহ একাধিক শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভোটপূর্ব নিরাপত্তা কৌশল নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে।
কমিশনের প্রধান নির্দেশ কী?
বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, কমিশন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে—
-
কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছনোর পরই দ্রুত রুট মার্চ শুরু করতে হবে
-
কোন কোন এলাকায় রুট মার্চ হবে তার আগাম তালিকা কমিশনকে জমা দিতে হবে
-
স্পর্শকাতর ও অতিসংবেদনশীল বুথ চিহ্নিত করতে হবে প্রশাসনকে
-
বাহিনীর থাকা, যাতায়াত ও লজিস্টিক ব্যবস্থা আগেভাগেই নিশ্চিত করতে হবে
-
গোটা প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখবেন ডিজি এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা
কত বাহিনী আসছে বাংলায়?
আসন্ন নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে—
-
মার্চের শুরুতেই মোতায়েন হবে ২৪০ কোম্পানি
-
বাকি বাহিনী ১০ মার্চের মধ্যে রাজ্যে পৌঁছবে
ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজিপিকে চিঠি পাঠিয়ে বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে।
নির্বাচনের দিন ঘোষণার আগেই এমন প্রস্তুতি কমিশনের কড়া অবস্থান স্পষ্ট করছে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহল। লক্ষ্য একটাই—সহিংসতামুক্ত ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করা।



