সন্দেশখালিকাণ্ডে শোরগোল রাজ্যজুড়ে। শাসক দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিস্থিতি পরিদর্শনে ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন বিরোধীরা। তবে প্রত্যেকবারই বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে সন্দেশখালি গিয়েছেন। শনিবার ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে আটকে দেওয়া হল বাম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে (Meenakshi Mukherjee)।



আরও পড়ুন: শুভেন্দুর ‘খলিস্তানি’ মন্তব্যের জের, মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি শিখ সম্প্রদায়ের
শনিবার পুলিশের চোখে কার্যত ধুলো দিয়ে সন্দেশখালিতে প্রবেশ করেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (Minakshi Mukherjee)। টোটোয় গ্রামে গ্রামে ঘুরে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। ধৃত সিপিএম নেতা নিরাপদ সরকারের বাড়ি যান। প্রথমে সফল হলেও কিছুক্ষণের মধ্যে বিশাল পুলিশ বাহিনী তাঁর পথ আটকে দেয়। এরপরই দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। পুলিশের উদ্দেশ্যে DYFI নেত্রী বলেন, ‘বেআইনি কাজ করছেন আপনারা। আমাকে কেন যেতে দেবেন না?’ ১৪৪ ধারা জারি থাকায় দুজন প্রতিনিধি ভিতরে যাওয়ার অনুমতি চাইলেই পুলিশ রাজি হয়নি নলে খবর।



এদিন সন্দেশখালিতে যান রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু ও সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিক। তাঁরা গ্রামের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন, গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলছেন বলে অভিযোগ। পুলিশের বাধার মুখে পড়ে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় দুই মন্ত্রীকে নিশানা করেন। তাঁদের শাহজাহানের লোক বলে কটাক্ষ করেন। বাম নেত্রী বলেন, ‘ওঁরা মানুষকে ভয় দেখাতে এসেছে। পার্থ ভৌমিক, সুজিত বসু শাহজাহানের দলের লোক।’
সন্দেশখালিতে পুলিশি বাধার মুখে মীনাক্ষী, রাজ্যের ২ মন্ত্রীকে নিশানা বাম নেত্রীর

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি মাসের শুরুতেই রেশন দুর্নীতি মামলায় (Ration Distribution Case) তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের (Sheikh Shahjahan) বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। এরপর কেটে গিয়েছে দেড় মাস। এখনও নিখোঁজ তৃণমূল নেতা। সম্প্রতি সন্দেশখালির মহিলারা শাহজাহান ও তাঁর দুই অনুগামী শিবু হাজরা, উত্তম সর্দারের গ্রেফতারির দাবিতে সরব হয়। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সন্দেশখালি। ইতিমধ্যেই শিবু ও উত্তম সর্দারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু শাহজাহানকে কবে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে তা এখনও অজানা। তাঁদের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ রয়েছে। আর এনিয়েই শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে চলেছে বিরোধীরা।







