স্বচ্ছতার দাবিতে লাল কার্ড, এবার মুখের ভাষা নয় বাম যুবর প্রাণ কেড়ে নিল পুলিশের লাঠি!

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: স্বচ্ছতার দাবিতে লাল কার্ড দেখাচ্ছে বাংলার যুব সমাজ কিন্তু উনি তো আমাদের মুখের ভাষা কাইরা নিতে চান! মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে বারবার এই অভিযোগ উঠেছে যে তিনি কণ্ঠরোধ করছেন বাংলার যুব সমাজের। বাংলার মানুষের। একাধিক বিতর্ক নিয়েও ভোট পূর্ব বাংলায় নিজের সাম্রাজ্যের সুতো ঠিকঠাক ভাবেই গোচ্ছাছিলেন মাননীয়া। কিন্তু সাধারণ মানুষের গলার উচুঁ আওয়াজ তিনি বরদাস্ত করেননি। আর তাই চাকরি চাইতে এসে প্রাণ দিতে হলো বাঁকুড়ার DYFI কর্মী, মইদুল ইসলাম মিদ্যা কে, এমন টাই মনে করছেন রাজ্যের মানুষ।

আরও পড়ুনঃ FasTag লাগানো না হলে আগামীকাল থেকে জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে গাড়ির চালক এবং মালিককে।

১১ বছরে বাংলায় প্রতিশ্রুতি এসেছে যত চাকরি এসেছে তার অনেক ভাগ কম। নিজেদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে, নিজেদের কথা জানতে নবান্ন অভিযান করেছিলেন SFI এবং DYFI এর কর্মীরা। শুধু বলেছিলেন গোটা রাজ্যে ১১ বছরে যেখানে একটাও চাকরি হয়না তাঁকে একবার সামনে থেকে দেখে আসবো না? সেই দেখতে যাওয়া, চোখে চোখ রেখে উত্তর চাইতে যাওয়া যে বিপ্লবের শেষ দিন হবে কে জানতো?

গত ১১ তারিখ নবান্ন অভিযান চালায় হাজার হাজার কালো মাথা আর লাল সাদা পতাকা। এমনিতেই গোটা রাস্তা ঘিরে ফেলা হয়েছিল হাজার হাজার পুলিশের নিশ্ছিদ্র প্রহরীতে। তবু যখন নবান্নের সামনে প্রথম স্লোগান ওঠে, মেনে নিতে পারেনি মাননীয়া পুলিশ। সোজা লকাপে। বেলা বাড়ে, মানুষের ঢল বাড়ে। নিজেদের মতো করে পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাস, জলকামান, লাঠিচার্জ সবই করে পুলিশ। পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় একাধিক কর্মী। জেলে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আরো বেশি সংখ্যক মানুষকে। প্রশ্ন সেদিন থেকেই উঠছিল, নিজেদের গণতান্ত্রিক দেশে, প্রশাসনের কাছে জবাব চাইতে গিয়ে সেই প্রশাসনের পুলিশের হাতেই মার কেনো খেতে হবে মানুষকে।

আর আজ সেই বর্বর অত্যাচারের ফলে প্রাণ গেলো ৩১ বছরের মইদুল মিদ্যার। কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসারত ছিলেন ১৩ তারিখ থেকে। ডাক্তার জানিয়েছেন পুলিশের অতিরিক্ত লাঠি চার্জের ফলেই ঘটেছে এই মৃত্যু।মইদুলের ছিকিতসার দায়িত্বে ছিলেন সিপিএম নেতা ফুয়াদ হালিম। তিনি জানান পুলিশের প্রচণ্ড মারে মইদুলের শরীরের একাধিক মাংসপেশিতে গুরুতর আঘাত লাগে। ফলে সডিয়াম, পটাশিয়াম বেরইয়ে গিয়ে ফুস্ফুসে জল জমতে শুরু করে জল। পেশি থেকে অতিরিক্ত প্রোটিন বেরিয়ে যায়, আজ সকালে আচমকাই কার্ডিয়াক আরেস্ট হয়ে মারা যান তিনি। সুত্রে জানা যাচ্ছে বাঁকুড়ার মইদুলের পরিইবারের একমাত্র রোজগেরে, বাড়িতে আছে মা,স্ত্রী, মেয়ে। একটা গোটা পরিবারের কি হবে কিছুই বুঝতে পারছে না পেশায় অট চালক মইদুলের বন্ধু,পরিজনেরা।


স্বচ্ছতার দাবিতে লাল কার্ড, স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে বাম নেতৃত্ব। মানবাধিকার কমিশনে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তাঁরা। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “মৃত্যু নয়, এটা খুন। সরকার ইতরতার সীমা ছাড়িয়েছে। এই বাচ্চা ছেলেটকে কীভাবে মেরেছে। সরকার ভয় পেয়েছে। তাঁর বুকে, পিঠে প্রচণ্ড আঘাত করেছে পুলিশ। চিকিৎসক চাপের মুখে সবটা বলতে পারছেন না।” বাঁকুড়া জেলা পার্টি অফিসে এই বিষয়ে বেলা ১১ টার সময় একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য। নিজের রাজ্যে দাঁড়িয়ে জবাব চাইতে যাওয়ার যে মাশুল দিতে হলো, তাতে স্তম্ভিত গোটা রাজ্য। আব্দুল মান্নান জানান, ইতিমধ্যে পুলিশের অত্যাচারের বিরুদ্ধেই তাঁরা হরতাল ডেকেছিলেন। রাজ্য প্রশাসনের কোন রকম ক্ষতি না করেও এই অত্যাচার এবং মৃত্যুর কী জবাব দেবেন? আর তীব্র আন্দোলনে যাবেন বলে জানাচ্ছে্ন বাম সমর্থকেরা। পুলিশে এবং রাজ্যের ওপর ভরসা হারাচ্ছেন তাঁরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন