লাগাতার বৃষ্টির জেরে একাধিক জেলা জলমগ্ন। বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। তারই জেরে জেলাশাসকদের সব ছুটি বাতিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব বি পি গোপালিকা। জেলায় জেলায় কন্ট্রোল রুম চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দুঃসংবাদ এল ডিভিসির তরফে। ৭০ হাজার কিউসেক জল ছাড়ছে জলাধার। যার জেরে ডুবতে পারে হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমানের নিচু এলাকা। পাশাপাশি, ৫ হাজার কিউসেক জল ছাড়ছে তিলপাড়া জলাধার। ময়ূরাক্ষী নদী লাগোয়া বহু তল্লাট ডোবার আশঙ্কা।
ঝাড়খণ্ডে প্রবল বৃষ্টির জেরেই জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়াল ডিভিসি। তিন দিন ধরে নিম্নচাপের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায়। ভাসছে ড্যামগুলিও। সেই কারণেই জলের চাপ মুক্ত করতে জল ছাড়া আবশ্যক হয়ে পড়েছে। জল যদি না ছাড়া হয় তাহলে ফেলে যেতে পারে ড্যামের দেওয়াল। সেটা হলে ভেসে যাবে রাজ্যের বিস্তির্ণ অঞ্চল। অন্যদিকে অতিবৃষ্টিতে আবার ধানের বীজ জমিতেই পচতে শুরু করায় উদ্বেগ বাড়ছে চাষীদের মধ্যে। সব মিলিয়ে নজিরবিহীন অবস্থা বাংলার।


উল্লেখ্য, জেলাশাসকদের সব ছুটি বাতিল করতে নির্দেশ দিলেন মুখ্যসচিব বি পি গোপালিকা। জেলায় জেলায় কন্ট্রোল রুম চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহকুমা স্তরেও কন্ট্রোল রুম চালু করতে জারি করা হয়েছে নির্দেশিকা। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে নবান্ন-র তরফে। ত্রান সামগ্রী এবং অন্যান্য ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখতে জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য সচিব।
আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর তৈরি হয়েছে গভীর নিম্নচাপ। সক্রিয় রয়েছে মৌসুমী অক্ষরেখা। আবার বাংলার ওপর দিয়েই গিয়েছে পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখাও গিয়েছে। আজও দিনভর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে রাজ্যজুড়ে। আবহাওয়ার সতর্কতা পেয়ে সতর্ক হয়ে গিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। ইতিমধ্যেই সরকারি কর্মীদের সব ছুটি বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



