দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি: এখন থেকেই যে ১০টি কাজ সেরে রাখবেন

দুর্গাপুজোর ৩ মাস বাকি। এখনই সেরে রাখুন ট্রেনের টিকিট বুকিং, বাড়ি রং, শপিং, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বাজেট প্ল্যানিং-সহ ১০টি জরুরি কাজ— পুজোর দিনগুলো কাটবে নিশ্চিন্তে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতা: হাতে আর মাত্র তিন মাস। দুর্গাপুজো মানেই শুধু ঠাকুর দেখা নয়, তার আগে ঘর গোছানো, শপিং, টিকিট কাটা— এইসব প্রস্তুতিরও একটা আলাদা মজা আছে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সব করতে গেলে হয় খরচ বাড়ে, নয়তো হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয় পুজো। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হলো এখন থেকেই কিছু কাজ সেরে রাখা। জেনে নিন, দুর্গাপুজোর তিন মাস আগে কোন ১০টি কাজ সেরে রাখলে পুজোটা হবে টেনশন-ফ্রি আর জমজমাট।

১. ট্রেন বা ফ্লাইটের টিকিট এখনই বুক করে ফেলুন
পুজোর সময় ট্রেনের টিকিট পাওয়া সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণত ১২০ দিন আগে থেকে বুকিং শুরু হয়। অর্থাৎ জুন-জুলাই থেকেই টিকিট কাটা শুরু করে দেওয়া উচিত ছিল। যদি এখনও কাটেননি, তাহলে দ্রুত IRCTC বা ফ্লাইট বুকিং সাইটে ঢুঁ মারুন। তাত্ক্ষণিক টিকিট বা স্পেশাল ট্রেনের সুযোগ থাকতে পারে। মনে রাখবেন, পুজোর সময় ট্রেনের ওয়েটিং লিস্ট কনফার্ম না-ও হতে পারে।

২. পুজোর বাজেট তৈরি করুন
পুজো মানেই খরচ। নতুন জামা, ঠাকুর দেখা, বাইরে খাওয়া, আড্ডা— সব মিলিয়ে খরচের হিসেব আগে থেকে না করলে পকেট ফাঁকা হয়ে যাবে। এখনই বসে একটা বাজেট বানান। কত টাকা জামাকাপড়ে, কতটা ঘোরাঘুরিতে, কতটা প্যান্ডেলে দর্শনীতে— সব ভাগ করে ফেলুন। দেখবেন, পুজোর পর আর ধার করতে হবে না।

৩. বাড়ির রং ও রিপেয়ারিং সেরে ফেলুন
পুজোর আগে বাড়ি রং করা, ভাঙা আসবাব মেরামত করা— এগুলো এখনই সেরে ফেলুন। পুজোর এক মাস আগে রাজমিস্ত্রি, পেইন্টার কেউ পাবেন না। আর পেলেও তাদের চার্জ থাকবে আকাশছোঁয়া। এখন কাজ করালে সময় পাবেন, টাকাও বাঁচবে।

৪. প্যান্ডেলের তালিকা আর রুট প্ল্যান তৈরি করুন
আপনি কি উত্তর কলকাতার ঠাকুর দেখবেন, না দক্ষিণের? নাকি দুটোই? কোন দিন কোন ঠাকুর দেখবেন, সেটা এখনই ঠিক করে ফেলুন। পুজোর সময় রাস্তায় ভিড়ে দাঁড়িয়ে প্ল্যান করতে গেলে মুশকিল হবে। বরং এখনই গুগল ম্যাপ খুলে রুট প্ল্যান করে নিন। কোন প্যান্ডেলে কখন যাবেন, কীভাবে যাবেন— সব লিখে রাখুন। কলকাতার সেরা প্যান্ডেলের তালিকা চাইলে আমাদের ওয়েবসাইটে সার্চ করুন।

৫. পুজোর জামাকাপড় এখনই কিনতে শুরু করুন
অনেকে পুজোর ঠিক আগে শপিং করতে যান। তখন দোকানে ভিড় থাকে চরমে, পছন্দের জামা পাওয়া যায় না, দামও থাকে বেশি। এখন গিয়ে শপিং শুরু করলে পাবেন সেরা ডিসকাউন্ট, পছন্দের ডিজাইন আর ফিটিং করানোরও সময় পাবেন। অনলাইন শপিংয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা— এখনই অর্ডার করুন, পুজোর আগে ডেলিভারি পেতে দেরি হবে না।

৬. স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নিন
পুজোর সময় বাইরের খাবার, ধুলো, ভিড়— এসবের জন্য অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস, প্রেসার বা শ্বাসকষ্ট আছে, তাঁরা এখনই ডাক্তার দেখিয়ে নিন। প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র স্টক করে রাখুন। পুজোর সময় ডাক্তার পাওয়া মুশকিল।

৭. বাড়ির ইলেকট্রিক ওয়ার্ক চেক করিয়ে নিন
পুজোর সময় বাড়িতে আলো দেবেন? তাহলে এখনই ইলেকট্রিশিয়ান ডেকে ওয়্যারিং, সুইচ বোর্ড, ফিউজ— সব চেক করিয়ে নিন। বর্ষায় অনেক সময় শর্ট সার্কিটের সমস্যা হয়। এখন সারিয়ে রাখলে পুজোর সময় অন্ধকারে থাকতে হবে না।

৮. ফোন ও গ্যাজেট রেডি রাখুন
পুজোর সময় ঠাকুর দেখতে গিয়ে সবচেয়ে জরুরি জিনিস হলো ফোন। ফোনের ক্যামেরা ঠিক আছে তো? স্টোরেজ খালি আছে তো? পাওয়ার ব্যাংক কিনেছেন? এখনই এসব চেক করে নিন। পুরনো ফোন বদলাতে চাইলে এখনই কিনে ফেলুন। ১৫ হাজারের নিচে সেরা ফোনের তালিকা আমাদের সাইটে পাবেন।

৯. পুজোর আগে ঘর সাজানোর প্ল্যানিং করুন
পুজোর সময় বাড়ি সাজানোর নিজস্ব মজা আছে। আলপনা, ফুল, লাইটিং— কীভাবে সাজাবেন, কী কী কিনতে হবে, তার একটা তালিকা এখনই তৈরি করে ফেলুন। অনলাইনে এখনই অর্ডার করলে পুজোর আগে সব পেয়ে যাবেন। পুজোর ঠিক আগে অর্ডার করলে ডেলিভারি পেতে দেরি হতে পারে।

১০. ছুটির আবেদন এখনই জমা দিন
অফিসে পুজোর ছুটি নেওয়ার প্ল্যান থাকলে এখনই আবেদন করে ফেলুন। পুজোর সময় সবাই ছুটি চায়। দেরি করলে আপনারটা নাও মিলতে পারে। বিশেষ করে ২০২৬ সালে দুর্গাপুজো কবে পড়ছে সেটা জেনে নিয়ে, এখনই ছুটির প্ল্যানিং করুন। দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সম্পূর্ণ সূচি এখানে দেখুন।

শেষ কথা
দুর্গাপুজোর মজাই হলো প্রস্তুতিতে। এখন থেকে একটু একটু করে সব গুছিয়ে রাখলে পুজোর চারটে দিন শুধু আনন্দ করবেন, কোনও টেনশন থাকবে না। তাই দেরি না করে আজ থেকেই এই ১০টা কাজ সেরে ফেলতে শুরু করুন। আর হ্যাঁ, পুজোর সব খবর আর প্রস্তুতির টিপস পেতে নজরবন্দির সঙ্গেই থাকুন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন