ধনতেরস (Dhanteras) মানেই সোনা-রুপো কেনা, নতুন বাসনপত্র এবং দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা—এমনটাই জানেন অনেকে। কিন্তু এই তিথিতে দেবী লক্ষ্মীর পাশাপাশি বিশেষভাবে পুজো করা হয় আরও এক দেবতার। তিনি হলেন ভগবান ধন্বন্তরী (Lord Dhanvantari)। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, তিনি আয়ুর্বেদের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা এবং দেবতাদের চিকিৎসক। ২০২৬ সালে ৬ নভেম্বর, শুক্রবার পালিত হবে ধনতেরস। এই দিন ধন-সম্পদের পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর কামনায় ধন্বন্তরীর পুজোও করেন বহু ভক্ত।
ধনতেরসের আর এক নাম ধনত্রয়োদশী। কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে পালিত হয় এই উৎসব। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, এই দিনে দেবী লক্ষ্মী ও ধনসম্পদের অধিপতি কুবেরের আরাধনা করা হয়। অন্যদিকে, ধন্বন্তরীর পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সুস্বাস্থ্য, রোগমুক্তি ও দীর্ঘ জীবনের প্রার্থনা। অর্থাৎ, ধনতেরসের তাৎপর্য শুধু আর্থিক সমৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
কে এই ভগবান ধন্বন্তরী?
হিন্দু পুরাণে ভগবান ধন্বন্তরীকে দেবতাদের চিকিৎসক এবং আয়ুর্বেদের প্রবর্তক হিসেবে মানা হয়। তাঁকে ভগবান বিষ্ণুর অবতার বলেও বর্ণনা করা হয়েছে। প্রচলিত মূর্তিতে ধন্বন্তরীর চার হাতে শঙ্খ, চক্র, ঔষধি এবং অমৃতের কলস দেখা যায়।
অমৃতের কলসের সঙ্গে তাঁর বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। পুরাণ অনুযায়ী, অমৃত পান করে অমরত্ব লাভের আকাঙ্ক্ষায় দেবতা ও অসুররা যখন সমুদ্র মন্থন করেছিলেন, তখন সেই মন্থন থেকেই আবির্ভূত হন ধন্বন্তরী। তাঁর হাতে ছিল অমৃতভর্তি কলস। সেই কারণেই ধন্বন্তরীকে স্বাস্থ্য, আরোগ্য ও দীর্ঘায়ুর প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
সমুদ্র মন্থনের সঙ্গে ধনতেরসের সম্পর্ক কী?
হিন্দু পুরাণের সমুদ্র মন্থনের কাহিনি ধনতেরসের ধর্মীয় তাৎপর্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। অমৃত লাভের আশায় দেবতা ও অসুররা ক্ষীরসাগর মন্থন করেছিলেন। সেই মন্থন থেকে একে একে বিভিন্ন দিব্য বস্তু ও সত্তার আবির্ভাব ঘটে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ভগবান ধন্বন্তরীও।
পুরাণের এই কাহিনি অনুযায়ী, কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে ধন্বন্তরীর আবির্ভাব হয়েছিল। সেই বিশ্বাস থেকেই দিনটি ধন্বন্তরী জয়ন্তী হিসেবেও পালিত হয়। একই তিথিতে ধনতেরস পালিত হওয়ায় এই উৎসবের সঙ্গে ধন্বন্তরীর পুজো অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে গিয়েছে।
ধনতেরসে কেন ধন্বন্তরীর পুজো করা হয়?
ধনতেরসে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনার মাধ্যমে ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন ভক্তরা। অন্যদিকে, ধন্বন্তরীর পুজো করা হয় সুস্বাস্থ্য, রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ুর প্রার্থনায়। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে অর্থের পাশাপাশি সুস্থ শরীরকেও জীবনের অন্যতম সম্পদ বলে মনে করা হয়।
আয়ুর্বেদ চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ ও প্রতিষ্ঠানও ধন্বন্তরী জয়ন্তী পালন করেন। তাঁদের কাছে এই দিনটি প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রের ঐতিহ্য স্মরণ করারও একটি উপলক্ষ।
কীভাবে করবেন ধন্বন্তরীর পুজো?
ধনতেরসে ধন্বন্তরীর মূর্তি বা ছবির সামনে ফুল, ফল ও প্রচলিত পুজোর সামগ্রী নিবেদন করে প্রার্থনা করার রীতি রয়েছে। অনেকে পরিবারের সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনায় ধন্বন্তরী মন্ত্র পাঠ করেন। অঞ্চল ও পারিবারিক প্রথা অনুযায়ী পুজোর নিয়মে পার্থক্য থাকতে পারে।
ধন্বন্তরীর পুজোর মূল ভাবনা হল সুস্থ জীবন, আরোগ্য ও দীর্ঘায়ুর কামনা। তাই ধনতেরসের দিনে লক্ষ্মী ও কুবেরের আরাধনার পাশাপাশি ধন্বন্তরীর পুজোও বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে।



