রথযাত্রা শেষ মানেই বাঙালির ক্যালেন্ডারে শুরু দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কোথাও কাঠামো পুজো, কোথাও খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে মণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। এরই মধ্যে পুজো উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান। প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা, এ বছর অনুদানের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় বাড়তে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনও সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা হয়নি।
নবান্ন সূত্রে খবর, ২০২৬ সালে প্রতিটি যোগ্য দুর্গাপুজো কমিটির জন্য অনুদানের অঙ্ক ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। তবে এই তথ্য এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে রাজ্য সরকারের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
গত বছর কত অনুদান দেওয়া হয়েছিল?
২০২৫ সালে রাজ্যের অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিটি দুর্গাপুজো কমিটিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ হাজার দুর্গাপুজো কমিটি এই অনুদান পেয়েছিল। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলে ছাড়-সহ একাধিক প্রশাসনিক সুবিধাও দেওয়া হয়েছিল।
অনুদান পেতে বদলাতে পারে নিয়ম
এর আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে শুধুমাত্র সেই সব পুজো কমিটিই সরকারি অনুদান পাবে, যাদের প্রকৃত অর্থে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। বড় বাজেটের বা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে অনুদানের আওতার বাইরে রাখা হতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
ফলে এবার অনুদান বণ্টনের ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ড কার্যকর হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে। তবে এই নীতির চূড়ান্ত রূপ কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
অনুদান বৃদ্ধির জল্পনা কেন?
নতুন সরকার ইতিমধ্যেই রথযাত্রার জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে কলকাতা ও জেলার বহু ছোট ও মাঝারি বাজেটের দুর্গাপুজো কমিটির আশা, এ বছরও সরকারি অনুদানের পরিমাণ বাড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব কমিটি স্থানীয় অনুদান ও সরকারি সহায়তার উপর নির্ভর করে পুজোর আয়োজন করে, তাদের মধ্যে এই প্রত্যাশা বেশি।
এবার কী হতে পারে?
২০২৫ সালে দুর্গাপুজোর অনুদান বাবদ রাজ্য সরকারের প্রায় ৪৯৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। অর্থনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যদি বড় ও স্বনির্ভর পুজো কমিটিগুলিকে অনুদানের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, তাহলে প্রকৃত প্রয়োজন রয়েছে এমন কমিটিগুলিকে বেশি আর্থিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
তবে এই মুহূর্তে অনুদানের পরিমাণ, যোগ্যতার মানদণ্ড এবং কোন কোন কমিটি এই সুবিধা পাবে—সবকিছুই সরকারি বিজ্ঞপ্তির উপর নির্ভর করছে। তাই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত অনুদান বৃদ্ধি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যকে সম্ভাবনা বা প্রশাসনিক সূত্রের তথ্য হিসেবেই দেখা উচিত।