বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও এক বিশাল উৎসব। ২০২৫ সালের পুজোয় সেই ছবিই ধরা পড়ল নতুন করে। প্রতিবছরের মতো এ বছরও পুজোর মরসুমে বাজার চাঙ্গা হয়েছে, তবে এবার বৃদ্ধি ঘটেছে একলাফে প্রায় ১৫ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, এবারে রাজ্যের বাণিজ্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬ হাজার থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে।
গত বছর যেখানে এই অঙ্ক ছিল ৪২ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি, সেখানে এবারের বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে রেকর্ড। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, এই বৃদ্ধি এসেছে কর্পোরেট স্পনসরশিপ, শপিং মলে ভিড়, ভোগ্যপণ্যে ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং মানুষের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাবের কারণে।


অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মন্তব্য
রাজ্যের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এবারে দুর্গাপুজোর অর্থনীতি আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী। তাঁর কথায়, “এখনই নির্দিষ্ট অঙ্ক বলা সম্ভব নয়, তবে অন্তত ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির আশা করা যায়।” সরকারি দপ্তর খোলার পর সঠিক তথ্য জানা যাবে বলে জানান তিনি।
বিদ্যুতের খাতেও রেকর্ড বৃদ্ধি
অর্থনীতির পাশাপাশি বিদ্যুৎ চাহিদাতেও রেকর্ড তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, এবারে চাহিদা ১২ হাজার মেগাওয়াট ছুঁয়ে যেতে পারে, যেখানে গত বছর তা ছিল ৯৯১২ মেগাওয়াট। অর্থাৎ বিদ্যুতের ব্যবহারও উৎসবের বাজারকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
অর্থনীতিবিদদের মতে, পুজোর মরসুমে বাড়তি ক্রেতাস্রোত ও বাজারে মানুষের ইতিবাচক মানসিকতা বাণিজ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। যদিও এবারে নিম্নচাপের কারণে কিছুটা আশঙ্কা ছিল, তবে প্রকৃতির ভ্রুকুটি উৎসবের আমেজে বাধা দিতে পারেনি। বরং যত বেশি মানুষ পথে নেমেছেন, ততই বাণিজ্যের অঙ্ক বেড়েছে।


সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজো ২০২৫ আবারও প্রমাণ করল—এই উৎসব কেবল ধর্মীয় আবেগ নয়, বরং বাংলার অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি।







