মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতার সঙ্কেত—দুবাই উপকূলে তেলবোঝাই ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। ইরানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে, আর সেই সঙ্গে বিশ্ব তেলের বাজারেও পড়েছে তাৎক্ষণিক প্রভাব। আগুনে জ্বলতে থাকা ট্যাঙ্কার ও সম্ভাব্য তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
কুয়েতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার দুবাই উপকূলের কাছে একটি পণ্যবাহী তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালানো হয়। কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (KPC)-এর সূত্র উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, হামলার জেরে জাহাজটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায় এবং এর কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। ফলে সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দুবাই প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি তাদের জলসীমার মধ্যেই ঘটেছে এবং এটি একটি সম্ভাব্য ড্রোন হামলা হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অগ্নিনির্বাপক দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
তবে স্বস্তির খবর, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। জাহাজে থাকা ২৪ জন নাবিকই নিরাপদে রয়েছেন বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
এই হামলার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক তেলের বাজারেও। মার্কিন অপরিশোধিত তেলের ফিউচার দাম ব্যারেল প্রতি ৩ ডলারের বেশি, অর্থাৎ প্রায় ২.৯ শতাংশ বেড়ে ১০৫.৯১ ডলারে পৌঁছেছে।
একই দিনে আরও একটি উদ্বেগজনক ঘটনা সামনে এসেছে। সৌদি আরবের রাস তানুরা উপকূলের কাছে একটি গ্রিক মালিকানাধীন কন্টেইনার জাহাজের কাছাকাছি জলে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তু আঘাত হানে বলে জানিয়েছেন সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। ফলে গোটা অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।



