নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিশ্বের দুই যুযুধান মহা প্রতিপক্ষ শক্তি রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট। দুজনেই অপরিসীম ক্ষমতার অধিকারী। উভয়েরই দাবি তারাই শ্রেষ্ঠ এবং সবথেকে শক্তিধর। ইউক্রেনে রাশিয়া হামলা চালানোর প্রথম দিক থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তুলোধনা করে আসছে রাশিয়াকে। অর্থনৈতিক দিক থেকে পুতিনের দেশ কে পঙ্গু করে দিতে শুরু থেকেই সচেষ্ট ছিল বাইডেন সরকার। গতকাল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে আকাশসীমাও।
আরও পড়ুনঃ ‘আমার জীবনের সব থেকে কঠিন কাজ’, ইউক্রেনে আটকে থাকা পড়ুয়াদের দেশে ফেরালেন সোনু সুদ
এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও উত্তপ্ত ইউক্রেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে ক্রমশই বাড়ছে সাধারণ মানুষের বিপদ। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলার অভিযোগ এনেছে ইউক্রেন। একাধিক এলাকায় ক্লাস্টার বোমা হামলার অভিযোগও উঠেছে। পুতিনের প্রতি রীতিমত হুঁশিয়ারি শোনা গেছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের গলাতেও। হামলার জন্য রাশিয়াকে মূল্য চোকাতে হবে, হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমেরিকা।
বাইডেনের হুশিয়ারির পরে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়াও। পরোক্ষে পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সার্জেই লাভরভ। বললেন, “তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হলে তা হবে পরমাণু অস্ত্র দিয়ে। যার পরিণাম হবে ভয়ঙ্কর। সেরগেই লাভরভ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, যদি দুই দেশই পরমাণু অস্ত্র (Nuclear War) তুলে নেয় তাহলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী, এবং সেক্ষেত্রে ধ্বংস কেউ আটকাতে পারবে না।”
পরমাণু যুদ্ধের জন্য তৈরি আছে আমেরিকা, পুতিনকে শক্তি প্রদর্শন বাইডেনের!

সব মিলিয়ে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ হলেও আসলে ঠান্ডা লড়াই চলছে রাশিয়া বনাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। আমেরিকা যত চাপ বাড়াচ্ছে ততই ইউক্রেনের ওপর হামলার তীব্রতা বাড়াচ্ছে রাশিয়া। এদিকে শক্তি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে আমেরিকাও। পারমাণবিক অস্ত্ররোধী বিমানের প্রথম পরীক্ষা উড়ান সেরে ফেলল আমেরিকা। যেন পরোক্ষে মস্কোকে বুঝিয়ে দেওয়া হল সম্ভাব্য পরমাণু যুদ্ধের জন্য তৈরিই আছে আমেরিকা!
মধ্য-পশ্চিম আমেরিকার স্টেট নেব্রাস্কায় পরমাণু অস্ত্ররোধী ওই বিমানের (Doomsday Plane) পরীক্ষামূলক উড়ান চালানো হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। পরমাণু যুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখার শীর্ষস্তরের কর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা ও তাঁদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ বাধাহীন ভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই আমেরিকা এই বিমানটি বানিয়েছে।
২০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই বিমানটিতে কোনও ডিজিটাল ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ব্যবহার করা হয়েছে ডিজিটালের আগের যুগের যোগাযোগ ব্যবস্থা। যাতে পরমাণু বোমার আঘাতে বা পরমাণু বিস্ফোরণের ফলে তৈরি হওয়া তীব্র শক্তিশালী কম্পাঙ্কের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গে এই বিমানটি অচল, নিষ্ক্রিয় না হয়ে পড়ে।

কোনও জানলা নেই বিমানটির। চালক, সহকারী চালক ছাড়া যাত্রীরাও থাকতে পারেন এই বিমানে। পরমাণু বোমার তীব্র তাপ সহ্য করার জন্য তিনটি স্তরের রক্ষা-আবরণী রয়েছে বিমানের বাইরে। বিমানের মাথার ৬৫টিরও বেশি স্যাটেলাইট ডিশ ও অ্যান্টেনা রয়েছে। ফলে এই বিমান আকাশ থেকে পৃথিবীর সবক’টি দেশের যে কোনও প্রান্তে থাকা জাহাজ, সাবমেরিন, যাত্রী ও যুদ্ধবিমান এবং সব ল্যান্ডলাইন ফোনে মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারে।



