চায়ে চিনি বাদ দিয়েছেন, মিষ্টি খাওয়াও প্রায় বন্ধ। তবু কি নিশ্চিত ভাবে ডায়াবিটিস এড়ানো সম্ভব? চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু চিনি কম খেলেই ঝুঁকি পুরোপুরি কমে যায় না। বরং দৈনন্দিন জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চার অভাব এবং দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার অভ্যাসই ডায়াবিটিসের বড় কারণ হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই মনে করেন চিনি না খেলেই ডায়াবিটিসের ভয় কেটে যাবে। কিন্তু বাস্তবে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি ও রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেটও গ্লুকোজে পরিণত হয়। ফলে চায়ে চিনি না থাকলেও, নিয়মিত বিস্কুট, কেক, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস বা অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে।


আজকের কর্পোরেট জীবনযাপনও বড় কারণ হয়ে উঠছে। দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে কাজ করা, শরীরচর্চার অভাব এবং কম শারীরিক নড়াচড়া ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস ডায়াবিটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পেশির ব্যবহার যত কম হয়, শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তত বাড়তে থাকে। ফলে টাইপ-২ ডায়াবিটিসের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। তাই প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি।
খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। অনেকেই ‘সুগার-ফ্রি’ বা ‘নো সুগার’ লেখা খাবার কিনে নিশ্চিন্ত থাকেন। কিন্তু প্রসেসড খাবার, ফ্লেভারড দই, কর্নফ্লেক্স, সফট ড্রিঙ্ক বা প্যাকেটজাত জুসে লুকিয়ে থাকতে পারে অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম মিষ্টি। এগুলো নিয়মিত খেলে শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে।


চায়ের ক্ষেত্রেও কিছু ভুল অভ্যাস সমস্যা বাড়ায়। দিনে বহুবার দুধ-চা খাওয়া, সঙ্গে বিস্কুট বা ভাজাভুজি খাওয়া শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করে। ফলে শুধু চিনি বাদ দিলেই হবে না, কীসের সঙ্গে চা খাওয়া হচ্ছে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়াও পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং ওজন বৃদ্ধি ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। পরিবারের কারও ডায়াবিটিস থাকলে আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবিটিস এড়াতে হলে সামগ্রিক ভাবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন জরুরি। নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত জল পান, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং বছরে অন্তত একবার রক্তে শর্করার পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ, চায়ে চিনি না খাওয়াটা ভালো অভ্যাস হলেও, সেটাই ডায়াবিটিস প্রতিরোধের একমাত্র উপায় নয়। সুস্থ থাকতে হলে পুরো জীবনযাত্রাতেই আনতে হবে বদল।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



