নজরবন্দি ব্যুরোঃ অ্যালোপ্যাথি নিয়ে রামদেবের মন্তব্যের প্রতিবাদে আজ ‘কালা দিবস’ পালন চিকিৎসকদের।অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা যখন করোনা থেকে মানুষকে ধীরে ধীরে সুস্থ করে তুলছে ঠিক সেইসময় এই চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে একের পর এক যুক্তিহীন অপমন্তব্য করে বসেন যোগগুরু বাবা রামদেব। তিনি এও বলেন করোনার থেকেও এই চিকিৎসা পদ্ধতির কারনেই বেশী মানুষ মারা যাচ্ছে। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই গোটা দেশ জুড়ে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ করোনা আবহে একগুচ্ছ নয়া নিয়মে হবে রাজ্যের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা।
ক্ষোভে ফেটে পড়ে দেশের চিকিৎসা মহল। তাঁরা দাবি করে দেশের কঠিন পরিস্থিতিতে যখন এমন ধীরে ধীরে দেশকে সুস্থ করে তুলছে এই সর্বাপেক্ষা ব্যবহৃত চিকিৎসা বিজ্ঞান তখন এই ধরনের মন্তব্য কীভাবে করেন তিনি। দাবি ওঠে অবিলম্বে ক্ষমা না চাইলে মহামারী আইনে তাঁকে গ্রেফতার করা হোক। তরিঘরি এই নিয়ে রামদেবকে চিঠি লেখেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। নিজের মন্তব্য থেকে কিছুটা সরে এলেও ক্ষমা চাননি রামদেব। পরে তাঁর বিরুদ্ধে ১০০০ কোটি টাকার আইনি নোটিস পাঠায় ICMR নামক শীর্ষ চিকিৎসা সংস্থা। যার জবাবে বাবা হুঙ্কার দেন কেউ তাঁর কিছু করতে পারবে না। তাঁর নামে এফআইআর ও দায়ের করা হয়।
আর এবার তাঁর মন্তব্যের প্রতিবাদে এইমস-এর রেসিডেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন আজ, ১ জুন ‘কালা দিবস’ পালনের ডাক দিল। জনগণের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য এবং চিকিত্সা কর্মীদের হয়রানির জন্য রামদেবকে মহামারি আইন ১৮৯৭-এর অধীনে আটক করার দাবি জানিয়েছে এই সংগঠন। তারা রামদেবের মন্তব্যকে অসংবেদনশীল এবং অপমানজনক বলেছে। সংগঠনের মতে, এই মন্তব্য স্বাস্থ্য কর্মীদের বিরুদ্ধে হিংসা প্ররোচিত করতে পারে এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা ব্যর্থ করতে পারে।
অ্যালোপ্যাথি নিয়ে রামদেবের মন্তব্যের প্রতিবাদে আজ ‘কালা দিবস’ পালন চিকিৎসকদের। সংগঠনের তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়, “আমাদের মাতৃভূমিকে বাঁচানোর জন্য কঠোর প্রচেষ্টা চলছে এই অতিমারিতে। নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে চলেছেন সকলে। সেখানে প্রমাণ ছাড়া আধুনিক চিকিত্সা বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে রামদেবের মন্তব্য নিন্দনীয়। আমাদের কাজকেই ব্যর্থ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।”



