নজরবন্দি ব্যুরোঃ পদোন্নতি-বদলি নিয়ে টানাপোড়েন, বহু বছর ধরে একই পদে কাজ করেও কোন পদোন্নতির বালাই নেই, বদলি সেই জেলার হাসপাতালেই। শেষ পর্যন্ত না পেরে চূড়ান্ত হতাশার জেরে সমাধান খুঁজতে গায়ে আগুন দিয়েছিলেন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক অবন্তিকা ভট্টাচার্য।
আরও পড়ুনঃ ২৪ ঘন্টায় সংক্রমণ ৩০ হাজারের নীচে, চিন্তা বাড়াচ্ছে আকটিভ রোগীর সংখ্যা
গত ১৬ই আগস্ট নিজের ক্ষোভ হতাশা নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন তিনি, লিখেছিলেন ‘কী করলে শান্তি পাব… চাকরি থেকে ইস্তফা দিলে? আট বছর জেলায় চাকরি করার পরে আবার জেলাতেই বদলি… কোনও পদোন্নতি ছাড়াই… আর নিতে পারছি না’।

সূত্রের খবর তার পরেই নিজের ঘরে গায়ে অ্যালকোহল ঢেলে দেশলাইয়ের কাঠি জ্বালিয়ে আগুন লাগিয়েছিলে। বহু রোগীকে বাঁচিয়ে তোলেন যাঁরা তাঁদেরই একজন অবন্তিকা। টানা দু সপ্তাহ SSKM-এ লড়াই চালানোর পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। আর তার পর থেকেই তোলপাড় শুরু হয়েছে চিকিৎসক মহলে।

জানা গিয়েছে কমিউনিটি মেডিসিনের অ্যাসিস্ট্যান্ট পদমর্যাদার চিকিৎসক আটবছর মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে কাজ করার পরে ফের একই পদ নিয়ে বদলি হয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারে। ক্ষোভ ছিল এতো বছর কাজের পরেও মহানগরে না দিয়ে কেন বা ফের জেলায় বদলি কর হল তাঁকে।

অবন্তিকার ঘটনার পর থেকেই একের পর এক ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চিকিৎসক মহল, কেউ কেউ ঘটনার জন্য কাঠগড়ায় তুলেছে সরকার এবং তার বদলির নীতিকেই। অনেকেই বলেছেন স্বজন পোষন নীতির জন্য কিছু চিকিৎসক শুরু থেকেই বা কেউ কিছু পর থেকেই কলকাতা এবং লেগোয়া মেডিক্যাল কলেজ গুলিতে আছেন।

কিন্তু সেই গোষ্ঠীর বাইরের সকলেই বহু বছর ধরে এক নাগাড়ে কাজ করে চলেছেন জেলার হাসপাতাল গুলিতেই। বছর বছর কাজ করার পরেও বদলি হচ্ছে সেই জেলার হাসপাতালেই। বেশ কয়েক বছর ধরেই বদলি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চিকিৎসক মহল বিভিন্নি সময়ে।

তবে ক্ষোভ আর হতাশায় নীতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে অবন্তিকা দেবীর প্রয়াণকে নজিরবিহীন বলছে সব সল। তাদের মতে এরকম ঘটনা মনে নেই তাঁদের কারো। সামনে উঠে আসছে সেই সরকারের পরিকাঠামো আর নীতি। অবন্তিকার স্বামী মুর্শিদাবাদের নামী স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, ছোট্ট বছর আটেকের মেয়ে অটিজিম আক্রান্ত।



