নজরবন্দি ব্যুরোঃ অনাস্থা কৌশিক চন্দে, নন্দীগ্রাম মামলায় ১৩ পয়েন্টের যুক্তি দিচ্ছে তৃণমূল! বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাস থেকে নন্দীগ্রাম মালা সরানোর আর্জি নিয়ে শুরু হয়েছিল আজকের শুনানি, শেষ হল তাই দিয়েই। বিচারপতি চন্দের সঙ্গে বিজেপির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত, পেশাগত, এবং আদর্শগত সম্পর্ক রয়েছে, এই মর্মে মামলা সরানোর বক্তব্য স্থান পেলো সামনে। মমতার আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি প্রথম থেকেই বারবার বিচারপতির বিজেপি যোগ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, আর সেই কারণেই আর্জি জানানো হয়েছে মামলা অন্য বেঞ্চে স্থানান্তিকরণের। তার পরেই ১৩ পয়েন্টের যুক্তি সাজিয়ে নিজেদের বক্তব্য সামনে এনেছে তৃণমূল।
আরও পড়ুনঃ ৬ মাসের মধ্যে উপ-নির্বাচন না হলেও মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন মমতাই, কিভাবে জানেন?
দাবি বিবেচনা করার জন্যই আজ মুলতুবি করা হয়েছে নন্দীগ্রাম মামলার শুনানি। নন্দীগ্রাম মামলা আদলতে ওঠার পর থেকেই শাসক দলের তরফ থেকে মামলা সরানোর দাবি জানানো হচ্ছিল। মামলা করার পরেই সামনে এসেছিল হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দ-র নাম। প্রায় সাথে সাথেই সামনে এসেছে ২০১৬ সালের একটি ছবি। যে ছবিতে দেখা যাচ্ছে বিজেপির আইন শেলের বৈঠকে বসে রয়েছেন তিনি। নন্দীগ্রাম হাইভোল্টেজ মামলার বিচারক কৌশিক চন্দ-র পাশেই বসে রয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং বিজেপির অন্যতম নেতা তথাগত রায়। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছিল বিচারপতি কি বিজেপি আইনি সেলের সাথে যুক্ত?

তার ওপর ভিত্তি করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শাসক দলের নেতা মন্ত্রী আইনজীবীরা দাবী করেছিলেন এই মামলা অন্যত্র সরানোর। সেই নিয়ে আজকের শুনানিতে দীর্ঘ সময় কথোপকথন হয়। তৃণমূলের তরফ থেকে মামলা সরানোর পক্ষে একাধিক পয়েন্ট তুলে যুক্তি সাজানো হয়েছে। কেনো কৌশিক চন্দের এজলাসে শুনানি হবে না নন্দীগ্রাম মামলার।

সেখানে বলা হয়েছে বিচারপতি কৌশিক চন্দের সঙ্গে বিজেপি-র ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আপনি বিজেপি-র লিগ্যাল সেলের প্রধান ছিলেন একসময়। বিজেপি-র হয়ে বিভিন্ন মামলায় আপনাকে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে। ২০১৮ পর্যন্ত গেরুয়া শিবিরের একাধিক ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন তিনি। এবং বিজেপির হয়ে বেশ কয়েকটি মামলা মোকদ্দমা লড়েছেন এই মামলার বিচারপতি।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে কৌশিক চন্দের বিজেপি যোগের বিষয়ে একাধিক বিজেপি নেতার সঙ্গে সম্পর্ক এবং ছবির কথা বলা হয়েছে। যেখানে আজ শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবীও একই প্রশ্ন করেন, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে একাধিক যায়গায় বিজেপি প্রথম সারির নেতা, তথা দিলীপ ঘোষ থেকে তথাগত রায়ের সঙ্গে ছবি বিদ্যমান বিচারপতির। অর্থাৎ বিচারপতি চন্দ’র সঙ্গে বিজেপির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত, পেশাগত, এবং আদর্শগত সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি ASGতে নির্বাচত হওয়ার পরেও তাঁর বিজেপি যোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
এসবের মাঝেই কৌশিক চন্দের বেঞ্চ থেকে মামলার সরানোর অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, এখনো পর্যন্ত তাঁকে স্থায়ী বিচারক হিসাবে এখনও নিশ্চিত করেনি শীর্ষ আদালত। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মামলা লরার জন্য কোন নিসচিত স্থায়ী বিচারপতি থাকা বাঞ্ছনীয় বলে মনে করছে মমতা-পক্ষ। এছাড়া মামলা আদালতে ওঠার পর এবং বিচারপতির নাম সর্বসমক্ষে আসার পর মামলার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সাধারন মানুষ, বিজেপি যোগ থেকে স্থায়ী করণ না হওয়া বিচারপতিতে আস্থা রাখছে না সাধারণ মানুষ।
নিরপেক্ষতা নিয়ে ধন্ধে মমতা-পক্ষ, আজ আদালতেও সিঙ্ঘভি বলেন, ‘‘আমার আগের বিভিন্ন সময়ের পর্যবেক্ষণ বলছে এই ধরনের মামলায় নিরপেক্ষ বিচার নিয়ে আশঙ্কা থেকে যায়। পক্ষপাতিত্বহীন বিচার আদালতের দায়িত্ব। এবং তা আদালতের নিশ্চিত করা উচিত।’’ সঙ্গে তিনি এও জানান, বিচারকের ভূমিকা পবিত্র। আইনজীবীর থেকে আলাদা
অনাস্থা কৌশিক চন্দে, নন্দীগ্রাম মামলায় ১৩ পয়েন্টের যুক্তি দিচ্ছে তৃণমূল! একাধিক যুক্তি তুল ধরে বিচারপতিকে এই মামলা থেকে সরে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে, সঙ্গে বলা হয়েছে এর পরেও যদি তিনি এই মামলা থেকে সরে না যান, তাহলে সাধারণ মানুষের বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে আস্থা চলে যাবে। এছাড়াও আজ শুনানি চলাকালীন বিজেপির হয়ে মামলা লড়া থেকে শুরু করে, বিজেপির কাঠামো বা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা নিজেই বলেন বিচারপতি চন্দ। সব মিলিয়ে গোটা দিনের শুনানি এবং বাকি পয়েন্ট তুলে ধরে মমতা পক্ষ চাইছে বেঞ্চ বদল হোক এই মামলার।








