পরিকল্পিত ভাবে জনতাকে উসকে দিয়ে এক যুবককে নৃশংসভাবে হত্যা—বাংলাদেশের ময়মনসিংহে দীপু দাস খুনের ঘটনায় সামনে এল ভয়াবহ চক্রান্তের ছবি। প্রথমে উত্তেজিত জনতা, তারপর টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে গণপিটুনি, শেষে গাছে ঝুলিয়ে আগুন—এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার হলেন শিক্ষক ইয়াসিন আরাফাত। তদন্তকারীদের দাবি, গোটা হত্যার ছক কষেছিলেন তিনিই।
বাংলাদেশ পুলিশের সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় শিক্ষক ইয়াসিন আরাফাত এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই নিয়ে দীপু দাস হত্যাকাণ্ডে মোট গ্রেপ্তারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২১-এ। যদিও তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত থাকতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


নিহত Dipu Das ছিলেন বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার মোকামিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। গত দু’বছর ধরে তিনি ভালুকার একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন। গত ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ কারখানায় আচমকা একদল বিক্ষোভকারী হামলা চালায়। চলে ব্যাপক ভাঙচুর। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেই সময় দীপুকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে বের করে আনা হয় এবং উন্মত্ত জনতা তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলেই দীপুর মৃত্যু হয়। কিন্তু তাতেও থামেনি হিংসা। তাঁর দেহ ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে নিয়ে গিয়ে গাছে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময় স্লোগানও দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি স্থানীয় সূত্রের।
তদন্তে উঠে এসেছে, ইয়াসিন আরাফাত ওই এলাকায় পরিচিত মুখ ছিলেন। ফলে তাঁর কথায় সহজেই উত্তেজিত হয়ে পড়ে জনতা। অভিযোগ, ধর্ম সংক্রান্ত আপত্তিকর মন্তব্যের অজুহাতে জনতাকে উসকে দেওয়া হয়েছিল। তবে এই দাবিকে সরাসরি খারিজ করেছে Rapid Action Battalion (র্যাব)। তাদের বক্তব্য, পরিকল্পিত প্ররোচনার ফলেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।


এই ঘটনায় বাংলাদেশ জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশ একে ‘পূর্বপরিকল্পিত মব লিঞ্চিং’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে এবং পুরো চক্রের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে।







